‘ভোটে জেতাতে না পারলে টিকিট জুটবে না’! কাউন্সিলরদের চরম হুঁশিয়ারি বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদের

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার আগে ঘর গোছাতে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে মরিয়া বাঁকুড়ার তৃণমূল নেতৃত্ব। সম্প্রতি বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে কাউন্সিলরদের কার্যত চরম হুঁশিয়ারি দিলেন বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। পাশাপাশি, দলের কর্মীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছে জেলা নেতৃত্ব।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় কাউন্সিলরদের সতর্ক করে বলেন, “পরিষ্কার ভাষায় জেনে রাখুন, যে কমিশনার এই নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবেন না, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট পাবেন না, যদি তিনি পরাজিত হন। আজ ঠিক করুন, তৃণমূল কংগ্রেসটা করবেন? ভোট করবেন? তাহলে থাকুন, ভিড় করার জন্য দয়া করে কেউ আসবেন না।” অর্থাৎ, জেতাতে না পারলে আগামী দিনে টিকিট পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সাংসদ।
দলের কর্মীদের মধ্যে চলতে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাঁকুড়া তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায়। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ আছে আমাদের দলে, যারা মানুষকে দিয়ে ওঁর (অরূপ চক্রবর্তী) কান ভারী করেন। আমি সেই লোকগুলোকে বলব আপনারা দলটার ক্ষতি করছেন। এটা কিন্তু করবেন না। নোংরামিটা করবেন না। লাগান-ভাগান করে কেউ বড় হয় না।”
আসলে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে ৮টি-তেই হেরে যায় তৃণমূল। এমনকি, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া লোকসভায় জিতলেও বাঁকুড়া পুর এলাকায় ২৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২২টিতেই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে সতর্ক তৃণমূল নেতৃত্ব।
এ প্রসঙ্গে বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা অবশ্য মন্তব্য করেন, তৃণমূলের এই কোন্দল ও দুর্নীতি এখন মানুষের কাছে কঙ্কালসার চেহারা নিয়ে এসেছে, যা নিয়ে বিজেপি ভাবিত নয়।
সবমিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দলীয় কর্মীদের মধ্যে চরম সতর্কতা এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধের বার্তা দিয়ে রাজনীতির হাওয়া সরগরম করে তুলল বাঁকুড়ার তৃণমূল।