“আমি পুলিশ, চোর খুঁজতে এসেছি!”-ফ্ল্যাটে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে বলল পলাতক খুনি, ধরা পড়ল কীভাবে?

রাজস্থানের এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় জড়িত পলাতক সুপারি কিলার অবশেষে ধরা পড়ল কলকাতায়। সল্টলেক স্টেডিয়াম সংলগ্ন পূর্বাচল আবাসনে ফিল্মি কায়দায় লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হলো না কুখ্যাত সুপারি কিলার ধর্মেন্দ্র গুর্জরের।
গত ৭ অক্টোবর রাজস্থানের কুচামান থানা এলাকায় একটি জিমে ঢুকে ব্যবসায়ী রমেশ রুলানিয়াকে খুন করেছিল ১১ জন সুপারি কিলার। সেই দলেরই অন্যতম মূল অভিযুক্ত ছিল ধর্মেন্দ্র।
সল্টলেকে ‘পুলিশ’ সেজে প্রবেশ
পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতার নারকেলডাঙা মেন রোড থেকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক পুলিশকর্মীর হাত ছাড়িয়ে পালিয়ে সল্টলেকের পূর্বাচল ক্লাস্টার ফোর-এর একটি আবাসনে ঢুকে পড়ে ধর্মেন্দ্র। সেখানে একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্ত্রীকে সে হিন্দিতে বলে, “ইধর চোর আয়া, হম পুলিশ হ্যায়, ঢুঁঢনে আয়া” (এখানে চোর এসেছে, আমি পুলিশ, খুঁজতে এসেছি)।
এরপর সোজা ছাদে উঠে কার্নিসে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত।
গার্ডদের হাতে ধরা পড়ল খুনি
ততক্ষণে আবাসনে কিছু গুঞ্জন শুরু হওয়ায় পুলিশ পরিচয় দেওয়া ধর্মেন্দ্র ভয় পেয়ে যায়। সে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে লাগোয়া আইপিএস কোয়ার্টারের দিকে ঢোকার চেষ্টা করে। তখনই আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে পাকড়াও করেন। লম্বা-চওড়া পুলিশি চেহারার এই সুপারি কিলারকে দেখে প্রথমে কেউ বুঝতেই পারেনি রাজস্থানে সে কী কীর্তি ঘটিয়ে এসেছে।
নারকেলডাঙায় নাটক
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধর্মেন্দ্র-সহ বাকি চার অভিযুক্ত কলকাতায় আসে। নারকেলডাঙা মেন রোডে ইতস্তত ঘোরাঘুরি করার সময় ফুলবাগান থানার টহলদারি পুলিশের নজরে পড়ে তারা। জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে তাদের কথায় বিস্তর অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
এক অভিযুক্ত জানায়, তারা গাড়ি কিনতে কলকাতায় এসেছে।
দ্বিতীয়জন বলে, হুগলিতে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাবে, কিন্তু সেই আত্মীয়ের নাম বলতে পারেনি।
তৃতীয়জন দাবি করে, তারা বৈদ্যনাথ মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
এই অসঙ্গতিতেই পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। দু’জনকে পাকড়াও করা হলেও, সেই সুযোগে এক পুলিশকর্মীর হাত ছাড়িয়ে ধর্মেন্দ্র গুর্জর পালিয়ে যায় এবং সল্টলেকের আবাসনে আশ্রয় নেয়।
রাজস্থানের খুনের ঘটনায় মোট ১১ জন অভিযুক্তের মধ্যে আগে ৭ জন ধরা পড়েছিল। এবার কলকাতায় ধর্মেন্দ্র গুর্জর গ্রেফতার হওয়ায় এই মামলার তদন্তে নতুন দিশা মিলবে বলে মনে করছে পুলিশ।