হাতে ‘চ্যানেল’, উধাও রক্ত! ডাঃ শালিনী দাসের মৃত্যু ঘিরে গভীর রহস্য, হার্ট অ্যাটাক না ওষুধের বিক্রিয়া?

পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি হাসপাতালে কর্মরত এক তরুণী চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মৃত চিকিৎসকের মায়ের দাবি এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে ফারাক তৈরি হওয়ায় ঘটনা আরও জটিল আকার নিয়েছে।

মৃত চিকিৎসকের নাম ডাঃ শালিনী দাস, যিনি অ্যানাস্থেশিয়োলজি নিয়ে আর জি কর মেডিক্যাল থেকে মাস্টার ডিগ্রি পেয়েছিলেন। তাম্রলিপ্ত মেডিক্যালের পর বর্তমানে তিনি কাঁথি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। জানা গিয়েছে, অল্প বয়স থেকেই রক্তচাপ জনিত সমস্যার কারণে তাঁকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হতো।

মৃত্যু ঘিরে রহস্য:

চিকিৎসকের মা দাবি করেছেন, শুক্রবার হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান মেয়ে। এর পরই তাঁর হাতের চ্যানেল থেকে আচমকা রক্তপাত শুরু হয়। তাঁকে তড়িঘড়ি তমলুক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কিন্তু মায়ের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি, সকালে হাসপাতালে যাওয়ার সময় মেয়ের হাতে কোনো চ্যানেল ছিলই না। তাহলে হাতের চ্যানেলটি কীভাবে এল, আর কেনই বা রক্তপাত শুরু হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশের দাবি ও ময়না তদন্ত:

এই পরিস্থিতিতে পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে, চিকিৎসক অসুস্থ ছিলেন। তাই হাতে চ্যানেল করে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল। যদিও মৃতার মায়ের দাবি এই বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।

তবে মৃত চিকিৎসকের ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকরা মনে করছেন, আচমকা হার্ট অ্যাটাকের কারণেই শালিনী দাসের মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু হাতে পুশ করা ওষুধের কোনো বিক্রিয়ার জেরে মৃত্যু হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজ্যে একাধিক চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছিল। এবার ডাঃ শালিনী দাসের এই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরেও অনেক প্রশ্ন তৈরি হলো।