রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে এবার ট্রাম্পের নিশানা চীন! ফের শুরু ‘ট্যারিফ যুদ্ধ’?

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে পরোক্ষভাবে সমর্থনের অভিযোগে এবার সরাসরি চীনের বিরুদ্ধে চরম অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী নভেম্বর মাস থেকেই চীনা পণ্যের ওপর নজিরবিহীনভাবে ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত কর (ট্যারিফ) আরোপ করতে চলেছে ওয়াশিংটন। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে নতুন করে এক ভয়াবহ ‘ট্যারিফ যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
গত বছর একই কারণে ভারতকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে ২৫ শতাংশ ও পরে ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছিল। এবার চীনের ক্ষেত্রেও সেই একই পথ অনুসরণ করছে হোয়াইট হাউজ।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেন সরকারের কাছে এমন তথ্য ও ছবি রয়েছে যা প্রমাণ করে— রুশ ড্রোন হামলায় চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। আমেরিকা এই প্রমাণ বিশ্বের সামনে তুলে ধরে বারবার অভিযোগ করছে যে, চীন আসলে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি দিচ্ছে। বর্তমানে রাশিয়া যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করে, তার প্রায় ৬০ শতাংশই যায় চীনে। ইরান থেকেও ৯০ শতাংশ তেল-গ্যাস কিনছে বেইজিং।
বেসেন্ট আরও জানান, শুধু আমেরিকা নয়, ইউরোপীয় দেশগুলোকেও চীনের এই ‘অর্থনৈতিক আগ্রাসন’ থামাতে একজোট হতে হবে।
সম্প্রতি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চীন বাণিজ্যের নামে অর্থনৈতিক হামলা চালাচ্ছে। তাদের একাধিক পণ্যে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমান।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে চীনের সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ ট্যারিফ বসানো হবে।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর চীনও চুপ করে নেই। বেইজিংয়ের এক মুখপাত্র পাল্টা জানিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই লড়াই চায় না, তবে ভয়ও পায় না। প্রয়োজন হলে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বেইজিং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের পথ খুঁজতে শুরু করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আমেরিকা ও চীনের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই ট্যারিফ যুদ্ধ বিশ্ববাজারে গভীর প্রভাব ফেলবে। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে চাপ, অন্যদিকে এই দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্ব— সবমিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ফের অস্থিরতা তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সিদ্ধান্তের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবাই এখন তাকিয়ে রয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা এই ‘ট্যারিফ যুদ্ধ’ কোথায় গিয়ে শেষ হয় এবং বিশ্ব বাণিজ্য এর ধাক্কা কীভাবে সামাল দেয়।