৫টি ল্যাম্বরগিনি দান করে দিয়েছিলেন কানিয়ে! অস্থিরতা আর পরিবারের প্রতি অসম্মান, কিম কেন ভাঙলেন ৮ বছরের দাম্পত্য?

অবশেষে প্রাক্তন স্বামী কানিয়ে ওয়েস্ট-এর (Kanye West, যিনি এখন ইয়ে Ye নামে পরিচিত) সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ এবং সেই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন রিয়েলিটি স্টার কিম কার্দাশিয়ান (Kim Kardashian)। বুধবার প্রকাশিত “কল হার ড্যাডি” (Call Her Daddy) পডকাস্টের একটি পর্বে কিম তাঁর দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তির কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, সম্পর্কটি একসময় “বিষাক্ত” (toxic) হয়ে উঠেছিল।

কিম জানান, কানিয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে “স্থিতিশীলতার অভাব” (lack of stability) ছিল, যা তাঁকে নিরাপত্তাহীন করে তুলেছিল।

অস্থিরতা এবং পরিবারের প্রতি অসম্মান
বিতর্কিত র‍্যাপার এবং ফ্যাশন ডিজাইনার কানিয়েকে উদ্দেশ্য করে কিম বলেন, “এমন অনেক বিষয় ছিল যা আমি আর সামলাতে পারছিলাম না।” কিম তাঁর মা ক্রিস কার্দাশিয়ান এবং বোনদের (কোর্টনি, খোলো, কেন্ডাল ও কাইলি) প্রসঙ্গে বলেন, “আমার সন্তানদের ঠাকুমা ও মাসিদের সম্পর্কে কেউ খারাপ কথা বললে সেই অনুভূতিটা আমার ভালো লাগতো না।”

২০১৪ সালে ইতালিতে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন কিম ও কানিয়ে। কিম ২০২১ সালে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন। কিম স্মরণ করে বলেন, তিনি সেই সময়ে “নিরাপদ বোধ করতেন না,” সেটা শারীরিক হোক বা মানসিক, এমনকি আর্থিক দিক থেকেও।

কানিয়ে ওয়েস্ট তাঁর বাইপোলার ডিসঅর্ডার এবং পরে অটিজমের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। কিম সেই সময়গুলির কথা মনে করে বলেন, মানসিক অস্থিরতার সময় কানিয়ে দু’বার দম্পতির পাঁচটি ল্যাম্বরগিনি গাড়িই দান করে দিয়েছিলেন। কিম বলেন, “আমি জানতাম না যে ঘুম থেকে উঠে তুমি কী পাবে। এবং সেটা খুবই অস্থিরতা জাগানো একটি অনুভূতি।”

“পরিবর্তন আনতে রাজি ছিল না কানিয়ে”
কিম জানান, সম্পর্কের শুরুতে তিনি কানিয়েকে সমর্থন করতে চেয়েছিলেন। তবে একসময় তিনি হতাশ হন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় যখন কারও প্রথম মানসিক ব্রেকডাউন হয়, তখন আপনি তাঁকে সমর্থন করতে চান, সাহায্য করতে চান এবং সবটা নিয়ে তাঁদের পাশে থাকতে চান।”

কিন্তু কিম স্পষ্ট জানান, “যখন কেউ এমন পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত থাকে না, যা আমি মনে করি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী হতো, তখন সেই সম্পর্কটিকে বিষাক্ত জেনেও ধরে রাখা সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।”

চার সন্তান— নর্থ, সেন্ট, শিকাগো এবং সল্ম-এর ওপর বিচ্ছেদের প্রভাব কেমন হবে, সেই কথা ভেবেই তিনি সময় নিয়েছিলেন। কিম বলেন, “আপনাকে সত্যিই সময় নিতে হবে এবং অপেক্ষা করতে হবে যে পরিস্থিতি বা মানুষটি পরিবর্তন হবে কিনা। তবে একবার যখন আপনি বুঝতে পারেন যে এটা পরিবর্তন হবে না বা ভালো হবে না, তখন আপনাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”