বাবার কোলে ছিল ৭ বছরের শিশু, দুর্ঘটনা ঘটতেই এয়ারব্যাগেই মৃত্যু! কেন গাড়ির এই সুরক্ষা ব্যবস্থা এখন মারণ ফাঁদ?

আধুনিক যুগে গাড়িগুলি ক্রমশ উন্নত এবং সুরক্ষিত হচ্ছে। ক্র্যাশ রেটিং, হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট, এয়ারব্যাগ, অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (ABS), অ্যাডভান্সড ড্রাইভার-অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS) এবং আরও অসংখ্য অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ভারতীয় রাস্তায় ভ্রমণকে নিরাপদ করতে এবং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু কমাতে তৈরি। অথচ, গাড়ির একটি অত্যন্ত মৌলিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, যা আঘাত ও মৃত্যু রোধের জন্য তৈরি, সেই এয়ারব্যাগই এখন ভারতের শিশুদের জীবন বিপন্ন করে তুলছে।

ভারতীয় সরকার প্রতিটি গাড়িতে ডুয়াল এয়ারব্যাগ বাধ্যতামূলক করেছে। ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে ড্রাইভার-সাইড এয়ারব্যাগ এবং ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে সামনের যাত্রীর দিকের এয়ারব্যাগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবুও, সম্প্রতি দু’টি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এয়ারব্যাগগুলি শিশুদের জন্য নিরাপত্তা নয়, মারণফাঁদ হয়ে উঠছে।

তামিলনাড়ুতে মর্মান্তিক ঘটনা: বাবার কোলেই মৃত্যু
গত সোমবার রাতে তিরুপোরুর কাছে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি ভাড়া করা গাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভ্রমণ করছিল সাত বছরের শিশু কেভিন। সে তার বাবার কোলে সামনেই বসে ছিল। হঠাৎ সামনে থাকা আরেকটি গাড়ি আচমকা ব্রেক কষে ডানদিকে মোড় নেয়। পেছনে থাকা কেভিনের গাড়ির চালক সময়মতো ব্রেক করতে না পারায় সামনের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা মারে।

সংঘর্ষের ফলে গাড়ির সামনের এয়ারব্যাগটি খুলে যায়, যা সজোরে সাত বছরের শিশুটির গায়ে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারায় শিশুটি। দ্রুত তিরুপোরুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেরলেও একই পরিণতি: শ্বাসরোধে মৃত্যু
দুর্ভাগ্যবশত, কেভিনের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেই গত সেপ্টেম্বরে কেরালার মালাপ্পুরম জেলার ছাপ্পানানগাদি গ্রামে একই ধরনের একটি ট্র্যাজেডি ঘটেছিল। একটি ট্যাঙ্কার ট্রাকের সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষ হলে গাড়ির এয়ারব্যাগটি খুলে যায় এবং সামনে মায়ের কোলে বসে থাকা দুই বছরের এক শিশুর মুখের ওপর চেপে বসে। এর ফলে শ্বাসরোধ হয়ে শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

শিশুদের জন্য কেন মারণফাঁদ এয়ারব্যাগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারব্যাগগুলি একজন প্রাপ্তবয়স্কের শরীর ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। সংঘর্ষের সময় এয়ারব্যাগটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে (প্রায় ঘণ্টায় ৩২২ কিমি বেগে) খুলে যায়। প্রাপ্তবয়স্করা সিটবেল্ট পরা অবস্থায় সঠিক ভঙ্গিমায় বসে থাকলে এই গতি সামলে নিতে পারেন। কিন্তু শিশুদের জন্য এই গতি মারাত্মক হতে পারে।

শিশু যদি সামনে, বিশেষ করে সামনের সিটে কোলে বা একা বসে থাকে, তবে এয়ারব্যাগ খোলার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরে তীব্র আঘাত লাগে বা মুখের উপর চেপে বসে শ্বাসরোধ হতে পারে, যা এই মর্মান্তিক মৃত্যুগুলির প্রধান কারণ। তাই শিশুদের সবসময় পিছনের সিটে এবং তাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘চাইল্ড সেফটি সিট’-এ বসানো বাধ্যতামূলক বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।