ধনতেরাসের আগেই বড় ধাক্কা! সীমান্তে বিএসএফের হাতে পাকড়াও কোটি টাকার সোনা-পাচারকারী, ফাঁস হল গোপন কৌশল

সামনেই ধনতেরাস। সোনার দাম আকাশছোঁয়া হলেও সীমান্তে সোনা পাচারের প্রচেষ্টা কিন্তু থামছে না। তবে চোরাচালান রুখতে সমান তৎপর রয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (BSF) জওয়ানরাও। সোনা পাচারের আগেই একটি বড়সড় চোরাচালানের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বিএসএফ।

জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের ১৪৩ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে এই অভিযান চালান। উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে পরিচালিত অভিযানে বিএসএফ সদস্যরা একজন পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। ধৃতের কাছ থেকে ৫৭৯ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৬.৫০ লক্ষ টাকা।

কীভাবে পাচারের ছক ছিল?

বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়। সেই সময় হাকিমপুর বাজার থেকে স্বরূপদহের দিকে যাচ্ছিল একটি সন্দেহজনক গাড়ি। টহলরত বিএসএফের একটি দল সেটিকে আটক করে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে কালো ফিতে মোড়ানো একটি আয়তাকার ধাতব বস্তু খুঁজে পাওয়া যায়। ফিতে সরাতেই দেখা যায়, সেটি আসলে একটি সোনার বার। এই কৌশলেই পাচারের চেষ্টা করছিল অভিযুক্ত।

উদ্ধার হওয়া সোনা ও পাচারের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে জানান, “সীমান্তে বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে বিএসএফ সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত। যে কোনও চোরাচালান বা অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে অনুরোধ, সোনা পাচার ও অন্য কোনও বেআইনি কার্যকলাপের তথ্য থাকলে তা বিএসএফের সীমা সাথী হেল্পলাইন ১৪৪১৯ নম্বরে অথবা ৯৯০৩৪৭২২২৭ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ বা ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে জানাতে।