লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামে নজির! আদানি গ্রিন এনার্জি গ্যালারিতে এক মিলিয়ন দর্শক সমাগম, অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে ‘এনার্জি রেভলিউশন’

লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামে অবস্থিত ‘আদানি গ্রিন এনার্জি গ্যালারি’ (Adani Green Energy Gallery) উদ্বোধনের মাত্র ৯ মাসের মধ্যেই এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করেছে। মার্চ ২০২৪-এ উদ্বোধনের পর থেকে এই গ্যালারিটি ইতিমধ্যে এক মিলিয়নেরও বেশি (১০ লক্ষ) দর্শককে স্বাগত জানিয়েছে। আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড (AGEL)-এর সহায়তায় তৈরি এই বিনামূল্যের গ্যালারিটি উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবজাতি কীভাবে একটি কম-কার্বন এবং টেকসই ভবিষ্যতের দিকে যেতে পারে, সেই বিষয়ে আলোকপাত করে।
এই মাইলফলকটি এমন এক সময়ে এল, যখন গ্যালারিটি তার টেকসই নকশা এবং নির্মাণ পদ্ধতির জন্য আর্কিটেক্টস জার্নাল (AJ) রেট্রোফিট অ্যান্ড রিইউজ অ্যাওয়ার্ড (সেপ্টেম্বর ২০২৫) লাভ করেছে।
টেকসই নকশা এবং আকর্ষণীয় প্রদর্শনী
আর্কিটেকচার ফার্ম ‘আননোন ওয়ার্কস’ দ্বারা ডিজাইন করা এই গ্যালারির কাঠামো নিজেই স্থায়িত্বের একটি মডেল হিসেবে কাজ করে। প্রদর্শনীর জন্য জাদুঘরের প্রাক্তন স্টোরেজ সুবিধা থেকে পুনর্ব্যবহার করা ২০০টিরও বেশি ধাতব তাক ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, শক্তি-সাশ্রয়ী এলইডি লাইটিং এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য অ্যালুমিনিয়ামের ফিটিংস ব্যবহার করে এর অপারেশনাল কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাস করা হয়েছে।
‘ফিউচার প্ল্যানেট’, ‘ফিউচার এনার্জি’ এবং ‘আওয়ার ফিউচার’— এই তিনটি প্রধান বিভাগে বিভক্ত এই প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের পরিচ্ছন্ন শক্তির ইতিহাস ও সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে নিয়ে যায়। ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল ইনস্টলেশন এবং দুষ্প্রাপ্য বৈজ্ঞানিক নিদর্শনগুলি জীবাশ্ম জ্বালানির প্রাথমিক ব্যবহার থেকে আজকের সৌর, হাইড্রোজেন এবং পারমাণবিক উদ্ভাবন পর্যন্ত শক্তির বিবর্তনকে জীবন্ত করে তুলেছে।
প্রধান আকর্ষণ
গ্যালারির স্ট্যান্ডআউট প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে ব্রিটেনের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্যাক্সি ‘১৮৯৭ বার্সি ক্যাব’, লন্ডনের বিশ্বের প্রথম পাবলিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ক্যাবল, অরকনি থেকে আসা একটি বিশাল জোয়ার টারবাইন ব্লেড এবং ইউটিলিটি-স্কেল ফার্মগুলিতে ব্যবহৃত একটি পাঁচ মিটার উঁচু সৌর আয়না। এছাড়াও একটি রোলস রয়েস ছোট মডুলার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের মডেল এবং ব্রিটেনের ১৯৫০-এর নিউক্লিয়ার ফিউশন পরীক্ষা ZETA (জিরো এনার্জি থার্মোনিউক্লিয়ার অ্যাসেম্বলি)-এর একটি চতুর্থাংশ (কোয়াড্র্যান্ট) এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি শিল্পী আলেকজান্দ্রা ক্যার এবং কলিন রেনি-এর পাঁচ মিটার উঁচু কাইনেটিক ভাস্কর্য ‘অনলি ব্রেথ’ এই প্রদর্শনীর কেন্দ্রবিন্দু, যা প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনকে অনুপ্রাণিত করার জন্য প্রকৃতির শক্তিকে প্রতীকী করে।
আদানি গ্রিন এনার্জির কার্যনির্বাহী পরিচালক সাগর আদানি বলেন, “আমরা সম্মানিত যে এই গ্যালারিটি ১০ লক্ষ মনকে অনুপ্রাণিত করছে এবং স্থায়িত্ব নিয়ে কথোপকথনকে উৎসাহিত করছে।”
সায়েন্স মিউজিয়াম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী স্যার ইয়ান ব্ল্যাচফোর্ড এই অর্জনকে স্থায়িত্বের প্রতি জনসাধারণের উৎসাহের প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উল্লেখ্য, আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড হল ভারতের বৃহত্তম পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সংস্থা, যাদের ১৬.৫ GW-এর বেশি অপারেশনাল পোর্টফোলিও রয়েছে। তারা গুজরাটের খাভদায় বিশ্বের বৃহত্তম পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রকল্প (৩০ GW সৌর ও বায়ু কমপ্লেক্স) তৈরি করছে।