খরচ কমাতে নেসলের বিশ্বজুড়ে ১৬,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত! কেন সিইও ফিলিপ নভ্রাটিন এই কঠিন পথে হাঁটছেন?

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থা নেসলে (Nestle) আগামী দুই বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬,০০০ কর্মী ছাঁটাই (job cut) করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এটি নেসলের মোট কর্মীর প্রায় ৬ শতাংশ। সংস্থাটির নতুন চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (CEO) ফিলিপ নভ্রাটিন (Philipp Navratil) দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বড় সিদ্ধান্তটি এলো।

কোন কোন পদে ছাঁটাই হবে?
বিশ্বের সব অঞ্চলে নেসলের সমস্ত কার্যালয়ে এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়বে। ছাঁটাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিম্নরূপ:

হোয়াইট-কলার পদ: অফিস ও ম্যানেজমেন্টের পদে থাকা ১২,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে।

প্রোডাকশন ও সাপ্লাই চেইন: উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ৪,০০০ কর্মীর ছাঁটাই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

কেন এই কর্মী ছাঁটাই?
এই ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের মূল কারণ হল দক্ষতা বৃদ্ধি (improve efficiency) এবং খরচ কমানো (cut costs)।

সিইও ফিলিপ নভ্রাটিন বলেছেন, “পৃথিবী পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নেসলেকে আরও দ্রুত পরিবর্তন হতে হবে।” কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে নেসলে ১ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (Swiss francs) সাশ্রয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা তাদের পূর্বের সঞ্চয়ের লক্ষ্যের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সংস্থার দাবি, দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধি ও সাফল্যের জন্য এই কঠিন সিদ্ধান্ত অপরিহার্য।

আর্থিক পারফরম্যান্স এবং নতুন সিইও-র কৌশল
সাম্প্রতিক সময়ে নেসলের আর্থিক পারফরম্যান্স কিছুটা মন্থর ছিল। নয় মাসের আর্থিক ফলাফলে তাদের মোট বিক্রি ১.৯ শতাংশ কমে ৬৫.৯ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় $৮৩ বিলিয়ন) হয়েছে। তবে সংস্থাটি মূল্য বৃদ্ধি এবং বাস্তব অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধিতে (real internal growth) শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নতুন সিইও নভ্রাটিন, যিনি ২০০১ সালে নেসলেতে যোগ দিয়েছিলেন, তিনি পূর্ববর্তী প্রধানের পরিকল্পনা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর মূল কৌশলগুলির মধ্যে রয়েছে:

বিজ্ঞাপনে বেশি খরচ করা।

কম কিন্তু শক্তিশালী পণ্য বাজারে আনা।

দুর্বল পারফর্ম করা ইউনিটগুলি বিক্রি করে দেওয়া।

তিনি জানিয়েছেন, নেসলের মূল লক্ষ্য হল বাস্তব অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি বজায় রাখা এবং এর জন্য সংস্থার সমস্ত পণ্যের পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই ঘোষণার পর নেসলের শেয়ারের মূল্য ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে।