সঞ্জয় দত্তের গ্রেপ্তারির পরেও সুপারহিট! কীভাবে চরম বিতর্কের মুখেও ‘খাল নায়ক’ ₹২৪ কোটির ব্লকবাস্টার হলো? ফাঁস করলেন সুভাষ ঘাই!

বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই ১৯৯১ সালে ‘সওদাগর’-এর সাফল্যের পর তাঁর পরবর্তী বড় প্রজেক্ট ‘খাল নায়ক’ (Khal Nayak)-এর চিত্রনাট্য চূড়ান্ত করেন। এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে ছিলেন সঞ্জয় দত্ত, মাধুরী দীক্ষিত এবং জ্যাকি শ্রফ। লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলাল এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক এবং আনন্দ বক্সী ছিলেন গীতিকার।
কিন্তু এই ছবিকে ঘিরে বিতর্ক এবং সাফল্যের গল্প একাধারে বলিউডের ইতিহাসে এক মাইলফলক তৈরি করেছে।
১. যে গান মুক্তির এক সপ্তাহে ১ কোটি ক্যাসেট বিক্রি করেছিল
‘খাল নায়ক’-এর একটি গান, ‘চোলি কে পিছে ক্যায়া হ্যায়’, মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা লাভ করে। এক সপ্তাহের মধ্যে এর অডিও ক্যাসেট বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি কপি!
গীতিকারের চ্যালেঞ্জ: সুভাষ ঘাই জানান, এই গান তৈরির সময় গীতিকার আনন্দ বক্সী তাঁকে ফোন করে গানের শুরুর লাইনটি লিখতে বলেন। লাইনটি ছিল “চোলি কে পিছে ক্যায়া হ্যায়”। লাইনটি শুনে সুভাষ ঘাই এতটাই চমকে গিয়েছিলেন যে তিনি নাকি সঙ্গে সঙ্গে কলম ফেলে দেন।
বিতর্কের জন্ম: সুভাষ ঘাই একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, গানের পরিস্থিতি ছিল এমন—একজন মহিলা পুলিশ অফিসার এক ভিলেনকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রথম লাইনটি শুনে সুভাষ ঘাই বিচলিত হলেও, আনন্দ বক্সী দ্বিতীয় লাইনটি বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেন: “চোলি মেঁ দিল হ্যায় মেরা, জো দিল ম্যায় দূঙ্গি অপনে ইয়ার কো, প্যায়ার কো।”
২. সঞ্জয় দত্তের ‘ঘাঘরা’ লুক এবং সুভাষ ঘাইয়ের নির্দেশ
এই গানের একটি পুরুষ সংস্করণও ছবিতে ব্যবহার করা হয়, যা সঞ্জয় দত্তের কণ্ঠে শোনা যায়। এই দৃশ্যে সঞ্জয় দত্তকে ঘাঘরা ও চোলি পরে নাচতে দেখা গিয়েছিল।
সঞ্জয় দত্ত জানান, এই পোশাক পরতে তিনি প্রথমে আপত্তি জানালেও, সুভাষ ঘাইয়ের জোরাজুরিতে রাজি হন। মজার বিষয় হলো, সেই সময় কোরিওগ্রাফার উপস্থিত না থাকায় স্বয়ং সুভাষ ঘাই সঞ্জয় দত্তকে নাচের স্টেপগুলি করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
প্লেব্যাক সিঙ্গার আলকা ইয়াগনিক মজা করে বলেছিলেন যে তিনি গানটি নিষ্পাপভাবে গাইলেও, ইলা অরুণ কিছু অদ্ভুত কণ্ঠস্বরের এফেক্ট যোগ করেছিলেন।
৩. গ্রেপ্তারির মুখেও ‘খাল নায়ক’ কীভাবে হিট?
ছবিটি মুক্তি পাওয়ার ঠিক আগে ঘটে এক চরম নাটকীয় মোড়। ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ছবির নায়ক সঞ্জয় দত্ত গ্রেপ্তার হন। এর ফলে বলিউডের অনেকেই ছবিটির ব্যর্থতা আশঙ্কা করেন এবং ছবিটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে।
বিপজ্জনক প্রচার: এই চরম বিতর্কের মুখেও সুভাষ ঘাই ‘খাল নায়ক’-এর ব্যাপক প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সঞ্জয় দত্তের আইনি ঝামেলা এবং ‘চোলি কে পিছে ক্যায়া হ্যায়’ গানটি নিয়ে জনবিক্ষোভই ছবির প্রচারের কাজ সেরে দেবে।
সুভাষ ঘাইয়ের মাস্টারস্ট্রোক: ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সুভাষ ঘাইয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী ছবিটি মুক্তি পায়। তিনি মুম্বাই জুড়ে দশটি প্রিমিয়ার শো আয়োজন করেন, যেখানে সঞ্জয় দত্তের পাশে মাধুরী দীক্ষিতের উপস্থিতি বিশাল ভিড় টেনেছিল। এই কৌশল কাজে দেয়।
ব্লকবাস্টার সাফল্য: ১৯৯৩ সালের ৬ আগস্ট ছবিটি মুক্তি পায়। সঞ্জয় দত্তের নেতিবাচক চরিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ছবিটি মোট ২৪ কোটি টাকা আয় করে এবং ১৯৯৩ সালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী ছবিতে পরিণত হয়।
জ্যাকি শ্রফ এই ছবির সাফল্যের সমস্ত কৃতিত্ব সুভাষ ঘাইকেই দেন, তাঁকে নিজের ‘ফাউন্ডেশন’ বলে উল্লেখ করেন। তবে সেট-এ জ্যাকি ও সঞ্জয়ের ভালো বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও পরিচালক হিসেবে সুভাষ ঘাইয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্পূর্ণ।