“SIR-এ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে নির্বাসন, বাংলাতেও হবে”-:অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে এবার বাংলাতেও ‘ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ’ (SIR) প্রক্রিয়া শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পঞ্চায়েত আজতক বিহারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু প্রক্রিয়া শুরুর কথাই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ‘নির্বাসন’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমোকে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “বিহারেও তো একই হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে নাম বাদ গেলে আন্দোলন হবে। কী হয়েছে? সবাই তো কাগজ জমা দিয়েছেন। ভোটও হবে। বাংলাতেও হবে।”

অনুপ্রবেশকারী বিতর্কে শাহের ‘রোডম্যাপ’:
শাহ এরপরই তার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এনে বলেন, “প্রথমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে। তারপর এদের ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট করা হবে। সবশেষে নির্বাসিত করা হবে। এটা দলের ঘোষিত লক্ষ্য।”

যাদের নাম বাদ যাবে বা যারা অনুপ্রবেশকারী, তাদের কোথায় এবং কীভাবে পাঠানো হবে, সেই প্রশ্নে শাহের বিস্ফোরক মন্তব্য, “সেটা সময়ই বলবে। আপনারা শুধু দেখতে থাকুন।”

রাহুল গান্ধী ও INDIA জোটকে কড়া নিশানা:
ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া তথা ‘এসআইআর’ (SIR)-এর বিরোধিতা করায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং INDIA জোটকেও তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “দেশে এই প্রথমবার SIR হচ্ছে না। ১৯৫৩ সালে প্রথমবার হয়েছিল। অর্থাৎ রাহুল গান্ধীর ঠাকুমার বাবা, ঠাকুমা, বাবা ও মায়ের সময়ও SIR হয়েছে। রাহুল গান্ধী হয়তো এই সত্যিটা জানেন না।”

অমিত শাহের কথায়, SIR হল ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ। যেখানে ১০ থেকে ১৫ বছর পর অনেকে মারা যান বা অন্যত্র চলে যান এবং দু’জায়গার ভোটার তালিকায় নাম থাকে। এর সংশোধন দরকার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাহুল গান্ধীকে আমি এটা প্রশ্ন করতে চাই, সেই শুদ্ধিকরণ হওয়া প্রয়োজন কি না।”

‘INDIA জোটের ভোটব্যাঙ্ক’ তত্ত্ব:
INDIA জোট কেন এর বিরোধিতা করছে, সেই প্রশ্নের জবাবে শাহ দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক নষ্ট করতে চাইছে না বলেই এই প্রতিবাদ।

তাঁর কথায়, “রাহুল গান্ধীরা বিরোধিতা করছেন কারণ ২০০৩ সালের পরে অনেক অনুপ্রবেশকারী বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সক্ষম হয়েছে। যারা বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে এসেছে, তারা কি ভোটাধিকার পেতে পারে? পারে না। আইন মোতাবেক যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি ও এখানকার বাসিন্দা, তারাই ভোটাধিকার পাবে। INDIA জোটের প্রধান সমস্যা হল, সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষ বেআইনিভাবে ভোটাধিকার পেয়ে ওদের ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করেছে। নাম বাদ পড়লে ভোট কম পাবে। সেজন্যই তারা প্রতিবাদ করছে।”

‘ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ নয়’:
বিজেপি বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, মুসলিমদের বেছে বেছে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে শাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মুসলমান অথচ অনুপ্রবেশকারী হলেও তাদের কি ভোটাধিকার থাকা উচিত? শুধু মুসলমান বলে তাদের কি অন্যায় অধিকার দেওয়া উচিত? রাহুল গান্ধী তাহলে প্রকাশ্যে একথা বলুন।”

তিনি আরও বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে যারা ধর্মকে আনছে তারা ভুল করছে। কারণ, অনুপ্রবেশকারীর কোনও ধর্ম হতে পারে না। তারা গণতন্ত্রের জন্য খুব বিপজ্জনক।”