মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে বিষাক্ত দূষণের অভিযোগ, ইথানল কারখানার সামনে বিক্ষোভ, পরপর দু’জনের মৃত্যুতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

বাঁকুড়ার মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে একটি ইথানল তৈরির কারখানার দূষণজনিত কারণে পরপর দু’জনের মৃত্যু হয়েছে—এই অভিযোগে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বুধবার সন্ধ্যা থেকে ওই কারখানার গেটের সামনে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তাদের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে এই কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিকের কারণে এলাকাবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

পরপর দু’জনের মৃত্যু:

মেজিয়ার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত স্থানীয় লালবাজার গ্রামের এক যুবক ও এক গৃহবধূর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রমজান খান ও হাসিবুল শেখ জানান, মঙ্গলবার এক যুবক ও বুধবার এক মহিলা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এবং আরও প্রায় ১৫-১৬ জন অসুস্থ হয়ে মেজিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন।

তাঁদের দাবি, “ওই কারখানার দূষণ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।” কয়েক কিমি ব্যাসার্ধের ৮/১০ গ্রামের মানুষ কারখানার দুর্গন্ধে টিকতে পারছেন না বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং বেশ কয়েক ঘণ্টা কারখানার দরজা আটকে বিক্ষোভ চলতে থাকে।

প্রশাসনের তৎপরতা ও ময়নাতদন্তের জটিলতা:

এই ঘটনার পর গ্রামে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন। তবে তিনি একটি বড় সমস্যার কথা উল্লেখ করেন:

“কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তার সঠিক কারণ জানতে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত জরুরি। কিন্তু এখানের মৃতদের ময়নাতদন্ত করাতে চাননা তাদের পরিবার।”

জেলা পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন, পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ময়নাতদন্ত করানোর ব্যবস্থা করা হবে। জেলা শাসক সিয়াদ এন স্বাস্থ্য দফতরের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন এবং গ্রামে মেডিক্যাল ক্যাম্প বসানো হয়েছে।

অন্যদিকে, অর্ধগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান চাঁপা সাহা মন্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরে কারখানার বিরুদ্ধে দূষণ সহ একাধিক অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দূষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।