এসএসসি-র ১০ নম্বর বিতর্ক, CBSE ও চুক্তিবদ্ধ শিক্ষকরা কেন বঞ্চিত? কলকাতা হাইকোর্ট তলব করল কমিশনের হলফনামা

এসএসসি ২০১৬ সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ ১০ নম্বর নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে এবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র পূজাবকাশকালীন বেঞ্চ এদিন এই নির্দেশ দেয়।

এসএসসি-র নতুন নিয়োগ নিয়মে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ করার কথা বলা হলেও, সিবিএসসি বোর্ডের স্কুলে কর্মরত, রাজ্যের চুক্তিবদ্ধ এবং অনিয়মিত শিক্ষকদের এই নম্বর দেওয়া হচ্ছে না। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে মোট ২৪ জন পরীক্ষার্থী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

আদালতের প্রশ্ন ও আইনজীবীর সওয়াল:

এদিন মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত প্রশ্ন তোলেন, “মামলাকারীরা কেউ পার্টটাইম, কেউ কনট্রাকচ্যুয়াল টিচার। একজনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে ১২ বছরের। শূন্যপদ থাকলে স্কুলের ম্যানেজমেন্ট অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করে, তাহলে তারা কেন ওই ১০ নম্বর পাবে না?” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ফলাফল প্রকাশিত হয়ে গেলে তাঁদের আবেদন মূল্যহীন হয়ে যাবে।

বিচারপতি স্মিতা দাস দে এই প্রসঙ্গে রাজ্যের আইনজীবীকে বলেন:

“তালিকা প্রকাশিত হয়ে গেলে তো তাঁরা সুযোগ হারিয়ে ফেলবেন। এখন আপনি বলুন, এদের জন্য কী পদক্ষেপ করা যায়, যাতে তাঁদের আবেদনের প্রতি সুবিচার করা যায়।”

কমিশনের অবস্থান:

রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের কাছে চুক্তিভিত্তিক ও অনুমোদিত পদ সংক্রান্ত তালিকা আছে। যদিও মামলাকারীদের পক্ষ থেকে অভিজ্ঞতার শংসাপত্র জমা দেওয়া হলেও স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “এটা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।”

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। পাশাপাশি, জেলার ডিআই (ডিস্ট্রিক্ট ইনসপেক্টর অফ স্কুল)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কতজন অনুমোদিত পদে নিযুক্ত রয়েছেন, তা আদালতকে জানাতে হবে। পুজোর ছুটি শেষে ১০ দিন পর নিয়মিত বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।