দার্জিলিঙে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ২ ঘণ্টার বৈঠক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের, তৃণমূলে ফেরা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি পরিদর্শনে দ্বিতীয়বারের জন্য সেখানে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে দার্জিলিঙে তাঁর উপস্থিতির মধ্যেই বড় রাজনৈতিক জল্পনা উস্কে দিয়ে সেখানে পৌঁছলেন রাজ্যের প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গী ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভোটের ঠিক আগে-আগে এই ঘটনায় রাজনীতির অলিগলিতে পারদ চড়ছে। তবে কি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সন্ন্যাস ভেঙে শোভন চট্টোপাধ্যায় আবার তৃণমূলে ফিরতে চলেছেন?
এই ঘটনার মাত্র কিছুদিন আগে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কালীঘাটে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠক চলেছিল প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে। সে সময় শোভন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি দলে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, “যেভাবে পরিকল্পনা করছেন অভিষেক ও যেভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, যেভাবে সেগুলো বাস্তবায়িত করতে চাইছেন, তা দেখেছি। তাই দেখা করতে চেয়েছিলাম। দল সময় দিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছি।”
এরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত পাহাড়কে ছন্দে ফেরানোর মুখ্যমন্ত্রীর ব্যস্ততার মাঝেই শোভন চট্টোপাধ্যায় দার্জিলিঙে পৌঁছলেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ডেকেছেন, নাকি তিনি নিজেই গিয়েছেন—তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠক দীর্ঘ প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলে।
প্রসঙ্গত, একসময় মেয়র পদে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল দল ছেড়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এরপর তিনি বিজেপিতে যোগ দিলেও পরবর্তীতে দেখা যায় গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত না থেকেও প্রতি বছর মমতার কাছে তাঁকে ভাইফোঁটা নিতে দেখা যায়। অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকের পর এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পাহাড়ে তাঁর এই দীর্ঘ বৈঠক, শোভনের তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন নিয়ে জোর জল্পনা সৃষ্টি করেছে।