‘০.৫ শতাংশের কম!’ ইথানল বিতর্কে বিরোধীদের পাল্টা গড়কড়ী, কেন বিদেশি তেল আমদানি বন্ধের বার্তা?

ইথানল মিশ্রণ নীতিতে ‘স্বার্থের সংঘাত’-এর অভিযোগ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ী। বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে দাবি করেন, তাঁর ছেলেদের সংস্থা দেশে উৎপাদিত মোট ইথানলের ০.৫ শতাংশেরও কম সরবরাহ করে। ফলে এই নীতিতে তাঁর ব্যক্তিগত লাভের প্রশ্নই আসে না।

নীতিন গড়কড়ী বলেন, “আমাদের দেশে সরকার বছরে প্রায় ১,৪০০ কোটি টন ইথানল কেনে। ইথানল আসার অনেক আগে থেকেই আমাদের একটি চিনি কারখানা ছিল, যা আমার ছেলেরা পরিচালনা করত। সেখানেও স্পিরিট উৎপাদিত হতো। বর্তমানে মোট সরবরাহের মাত্র ০.৫ শতাংশেরও কম ইথানল তাদের সংস্থা থেকে আসে।”

মন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন, দেশে মোট ৫০০-৫৫০টি শিল্প সংস্থা ইথানল সরবরাহ করে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দরপত্রের মাধ্যমে ইথানল সংগ্রহ করে এবং এর দাম ঠিক করে মন্ত্রিসভা। এই প্রক্রিয়ার কোনো অংশেই তাঁর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ নেই।

২২ লক্ষ কোটি টাকার তেল আমদানি বন্ধের বার্তা
তবে এই ব্যক্তিগত বিতর্কের বাইরে গিয়ে নীতিন গড়কড়ী জোর দেন দেশের বৃহত্তর অর্থনীতির উপর। তিনি জানান, দেশের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি বাবদ বছরে প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়। এই বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে ইথানল, মিথানল, বায়োডিজেল, এলএনজি এবং হাইড্রোজেন-এর মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।

তিনি বলেন, “দিল্লির মানুষ জানেন, এখানকার ৪০ শতাংশ দূষণের কারণ এই জীবাশ্ম জ্বালানি। এর ফলে মানুষের গড় আয়ুও কমছে। দেশের আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যের সঙ্গে কি ২২ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশ চলে যাওয়া মানানসই? আমাদের কি আত্মনির্ভর হওয়া উচিত নয়? পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে দেশের দূষণ কি শেষ করা উচিত নয়?”

মন্ত্রীর এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, তিনি ব্যক্তিগত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন এবং জাতীয় স্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষার দিকটিই তুলে ধরতে চাইছেন। তাঁর দাবি, এই নীতি শুধুমাত্র জ্বালানি নিরাপত্তা নয়, বরং দেশের কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করারও একটি উপায়।