আফ্রিকা ইউনিয়নের সাসপেনশন! ৩৬৫ দিনের আল্টিমেটাম: কেন মাদাগাস্কারের নতুন সামরিক শাসক কর্নেল মাইকেল দ্রুত শপথ নিচ্ছেন?

সামরিক অভ্যুত্থানের (Military Coup) মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনাকে (Andry Rajoelina) ক্ষমতাচ্যুত করার পর এবার আন্তর্জাতিক চাপ ও আফ্রিকা ইউনিয়নের (African Union) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই দ্রুত রাষ্ট্রপতির পদে শপথ নিতে চলেছেন মাদাগাস্কারের (Madagascar) নতুন সামরিক শাসক কর্নেল মাইকেল র‍্যান্ড্রিনিারিনা (Colonel Michael Randrianirina)।

বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে কর্নেল মাইকেল জানান, শুক্রবারই হাইকোর্ট সাংবিধানিক আদালতের (High Constitutional Court) মাধ্যমে তিনি শপথ গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, “কর্নেল মাইকেল র‍্যান্ড্রিনিারিনা মাদাগাস্কার প্রজাতন্ত্রের পুনর্গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন।”

আফ্রিকা ইউনিয়নের তাৎক্ষণিক সাসপেনশন:

অভ্যুত্থানের পর পরই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ৫৫ সদস্যের আঞ্চলিক জোট আফ্রিকা ইউনিয়ন। বুধবার এক ঘোষণায় ব্লকটি অবিলম্বে মাদাগাস্কারের সদস্যপদ স্থগিত করেছে এবং দেশে বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা ও দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্থগিতাদেশ র‍্যান্ড্রিনিারিনার নতুন নেতৃত্বের উপর গুরুতর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দেশটি আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

ক্ষমতাচ্যুত রাজোয়েলিনা ও তরুণ সমাজের বিক্ষোভ:

যদিও ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরেও এই সামরিক দখলদারিত্বের নিন্দা করেছেন এবং পদত্যাগ করতে রাজি হননি। তবে, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবিতে জি-জেড (Gen Z) অর্থাৎ তরুণ সমাজ দীর্ঘ দিন ধরেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের দলত্যাগ ও তরুণদের বিক্ষোভের চাপেই সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, র‍্যান্ড্রিনিারিনা আগে জানিয়েছিলেন যে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নিয়েছে এবং সংসদের নিম্নকক্ষ (জাতীয় পরিষদ) বাদে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সামরিক নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ দুই বছর শাসন করবে এবং তারপর নতুন নির্বাচন হবে।

প্রেসিডেন্ট তৈরির কারিগরই হলেন বিদ্রোহীর নেতা:

উল্লেখ্য, কর্নেল র‍্যান্ড্রিনিারিনা ছিলেন এলিট ক্যাপস্যাট (CAPSAT) সেনা ইউনিটের একজন কমান্ডার। এই ইউনিট ২০০৯ সালের অভ্যুত্থানে মূল ভূমিকা নিয়েছিল, যার মাধ্যমে রাজোয়েলিনা ক্ষমতায় এসেছিলেন। তবে, গত সপ্তাহে তিনি রাজোয়েলিনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি না চালানোর জন্য সৈন্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রের গড় বয়স ২০ বছরের কম এবং এখানকার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ১৯৬০ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটির মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৪৫% হ্রাস পেয়েছে। এমন চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেই দেশটির রাজনীতিতে এই অস্থিরতা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।