বিরাট কোহলি কি তবে দেশ ছাড়লেন? লন্ডনে বসেই কীভাবে সামলাবেন গুরুগ্রামের বিশাল সম্পত্তি? জানুন আইনি কৌশল! (কৌতূহল: কোহলির বিদেশে থাকা ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার আইনি সমাধান)

টিম ইন্ডিয়ার তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি তাঁর গুরুগ্রামের বিলাসবহুল বাংলোর (DLF সিটি ফেজ-১) জন্য তাঁর দাদা বিকাশ কোহলির হাতে জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (GPA) তুলে দিয়েছেন। প্রায় ৮০ কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পত্তির প্রশাসনিক দায়িত্ব এখন থেকে বিরাটের দাদা সামলাবেন।

সূত্র মারফত জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে একান্তই ব্যবহারিক কারণে। স্ত্রী আনুশকা শর্মা এবং দুই সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন বিরাট। ভারতে তাঁর অনুপস্থিতিতে এই উচ্চ-মূল্যের সম্পত্তির আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়ার ফলে তাঁর ভাই এখন বিরাটের পক্ষ থেকে সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা বা প্রয়োজনে লেনদেনও করতে পারবেন। এতে বিদেশে থেকেও সম্পত্তির সমস্ত কাজ মসৃণভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে।

পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (PoA) কী এবং কীভাবে কাজ করে?
বিরাট কোহলির এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (PoA) কী, তা জানার আগ্রহ বেড়েছে।

সংজ্ঞা: পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি হল একটি আইনি নথি, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি (যিনি মূল ব্যক্তি বা Principal) অন্য একজন ব্যক্তিকে (যিনি Agent) সম্পত্তি, অর্থ বা আইনি বিষয়ে তাঁর পক্ষে কাজ করার ক্ষমতা দেন।

কার্যকারিতা: যদি কোনো সম্পত্তির মালিক বিদেশে থাকেন, তবে তিনি ভারতে একজন বিশ্বস্ত আত্মীয়কে PoA দিতে পারেন। এর ফলে সেই আত্মীয় (এজেন্ট) মালিকের পক্ষে সম্পত্তি বিক্রি, লিজ দেওয়া বা রক্ষণাবেক্ষণের মতো সমস্ত কাজ করতে পারেন। এজেন্টের নেওয়া সমস্ত পদক্ষেপই মালিকের দ্বারা নেওয়া পদক্ষেপের মতো একই আইনি বৈধতা বহন করে।

PoA-এর প্রকারভেদ
মূলত দুই ধরনের PoA রয়েছে:

১. জেনারেল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (GPA): এটি এজেন্টের হাতে বিস্তৃত ক্ষমতা তুলে দেয়। এর মাধ্যমে এজেন্ট মূল ব্যক্তির সম্পত্তি, অর্থ ও আইনি সংক্রান্ত সব ধরনের বিষয় পরিচালনা করতে পারে। (যেমনটা বিরাট কোহলি তাঁর দাদাকে দিয়েছেন)।

২. স্পেশাল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (SPA): এটি একটি নির্দিষ্ট কাজ বা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যেমন—কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি করা বা একটি আইনি মামলায় প্রতিনিধিত্ব করা।

বৈধতা এবং সমাপ্তি
নথিকরণ: ভারতে PoA সাধারণত ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে তৈরি করা হয় এবং এটি নোটারাইজড হওয়া আবশ্যক। এতে মূল ব্যক্তি, এজেন্ট এবং কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষর লাগে।

বাতিল: মূল ব্যক্তি যেকোনো সময় এই ক্ষমতা বাতিল করার অধিকার রাখেন। এছাড়া, মূল ব্যক্তির মৃত্যু, দেউলিয়া হওয়া বা মানসিক অক্ষমতা দেখা দিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। যদি SPA-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাজটি সম্পন্ন হয়, তবেও এটি বাতিল হয়ে যায়।

বিরাট কোহলির এই পদক্ষেপ বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যে একটি প্রচলিত প্রথাকেই তুলে ধরে, বিশেষ করে যারা দেশে উচ্চ-মূল্যের সম্পত্তি রাখেন। এটি নিশ্চিত করে যে, মালিকের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই আইনি ও আর্থিক বিষয়গুলি দক্ষতার সাথে পরিচালিত হতে পারে।