তালিবানের পালটা হামলায় কোণঠাসা পাকিস্তান! যুদ্ধবিরতির জন্য কাতার-সৌদির কাছে ‘আবেদন’, ডুরান্ড লাইনে চরম উত্তেজনা

গত ১৪ অক্টোবর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও কান্দাহারে পাকিস্তানের বিমান হামলায় উত্তেজনা চরমে। এই হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন নিরীহ আফগান নাগরিক নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের এই আগ্রাসনে চরম ক্ষুব্ধ তালিবানও পাল্টা আঘাত হেনেছে। জানা যাচ্ছে, পালটা হামলায় তালিবানরা স্পিন-বোলদাক অঞ্চলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চৌকি দখল করে নিয়েছে।

তালিবান দাবি করেছে, তাদের অতর্কিত হামলায় পাক সেনার জওয়ানরা এতটাই ভীত হয়ে পড়েছিলেন যে তারা ‘প্যান্ট ছাড়াই পালিয়েছেন’। পাক সেনার ট্রাউজার্স প্রদর্শন করার তালিবান সদস্যদের বেশ কিছু ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়াও, পাক সেনার একাধিক ট্যাঙ্ক এবং প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র তালিবানদের হাতে এসেছে বলেও রিপোর্টে জানা যাচ্ছে।

পাকিস্তানের এই বিমান হামলার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কান্দাহারের এক বাসিন্দা ‘টোনো নিউজ’কে বলেন, তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তালিবানে যোগ দেবেন। অনেকে তালিবানের পালটা আক্রমণের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগানিস্তানের সমস্ত মানুষ তালিবানের পাশে আছেন।

আফগানদের সমর্থন তালিবানের প্রতি

পালটা আক্রমণের পর আফগানরা এখন নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষার জন্য তালিবানের পিছনে একজোট হচ্ছে। একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেছেন, তারা কারও সঙ্গে সংঘাত চান না, কিন্তু “পাকিস্তান বারবার আফগানিস্তানের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে”। কাবুলের এক বাসিন্দা আবদুল গাফুর জানিয়েছেন, “আমরা ইসলামিক আমিরাত ও আমাদের দেশকে রক্ষা করব।”

১৫ অক্টোবরের বিমান হামলায় ১৫ জন নিরপরাধের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের আরও ক্ষুব্ধ করেছে। ডুরান্ড লাইন জুড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর প্রবল আক্রমণ চালিয়েছে তালিবান যোদ্ধারা। তালিবানের দাবি, সংঘর্ষে তারা ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে এবং ২০টি পাকিস্তানি নিরাপত্তা চৌকি ধ্বংস করেছে।

সংঘর্ষ বাড়তেই পাকিস্তান কাতার ও সৌদি আরবের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য “আবেদন” জানায় বলে খবর। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ভঙ্গুর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু তালিবান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের সমাপ্তি এখনও বহুদূর।