শ্বশুরবাড়ির চাপেই স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা? বোনের একগুঁয়েমিতেই গ্রেফতার হলেন সার্জন স্বামী! কী ঘটেছিল ড. কৃতিকার জীবনে? (সম্পর্ক এবং পরিবারের ভূমিকা তুলে ধরা)

চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন বেঙ্গালুরুর তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. কৃতিকা এম. রেড্ডি। কিন্তু গত ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ সালে তাঁর জীবন আকস্মিকভাবে থেমে যায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করা হলেও, কৃতিকার বোন ড. নিকিতা এম. রেড্ডি-র অবিচল জেদেই ঘটনাটি এক ভয়ঙ্কর মোড় নেয়।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর কৃতিকার দেহ থেকে নেওয়া নমুনা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL)-তে পাঠানো হয়। সম্প্রতি সেই রিপোর্ট হাতে আসার পরই ফাঁস হয় এক মর্মান্তিক সত্য: কৃতিকার স্বামী, পেশায় সার্জন ড. মহেন্দ্র রেড্ডি, এখন তাঁর স্ত্রী-কে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত।

যেভাবে এলো অ্যানাস্থেসিয়ার ওভারডোজ
FSL রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে কৃতিকাকে প্রাণঘাতী মাত্রায় অ্যানেস্থেটিক ড্রাগ ‘প্রোপোফল’ দেওয়া হয়েছিল, যা সাধারণত শুধুমাত্র অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত হয়। ২৯ বছর বয়সী ড. কৃতিকা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে কাভেরী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানে তাঁকে ‘ডেড অন অ্যারাইভাল’ বলে ঘোষণা করা হয়। সে সময় তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকতেন এবং নিজের ঘরেই অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর তিন দিন আগে কৃতিকা গ্যাস্ট্রাইটিসের অভিযোগ করেছিলেন এবং তাঁর স্বামীই চিকিৎসা করেছিলেন। কিন্তু বোনের জোরাজুরিতেই প্রাথমিকভাবে স্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাটিকে ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়।

৬ মাস পর FSL রিপোর্ট হাতে আসার পর বেঙ্গালুরু পুলিশ ড. মহেন্দ্রকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বাড়িতেই IV ড্রিপের মাধ্যমে প্রোপোফলের ওভারডোজ দিয়ে কৃতিকার মৃত্যুকে স্বাভাবিক সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন।

আর্থিক বিবাদ ও মানসিক নির্যাতন: খুনের কারণ
তদন্তে জানা যায়, আর্থিক বিবাদ এবং দাম্পত্য কলহ এই ঘটনার মূল কারণ। কৃতিকার পরিবারের অভিযোগ, নিজস্ব বেসরকারি হাসপাতাল খোলার জন্য মহেন্দ্র বারবার তাঁদের কাছ থেকে টাকা চাইতেন। এমনকি, তাঁদের সাহায্যে একটি ক্লিনিক তৈরি করার পরেও তাঁর টাকার চাহিদা মিটত না। কৃতিকার পরিবার আরও দাবি করে যে মহেন্দ্রের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং তিনি প্রায়শই কৃতিকাকে মানসিক নির্যাতন করতেন।

কৃতিকার পরিবারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী ময়নাতদন্তের বিরোধিতা করেছিলেন। কৃতিকার ভগ্নিপতি মোহনের বয়ান অনুযায়ী, “২৩ এপ্রিল মহেন্দ্র কৃতিকাকে ড্রিপ দিয়েছিলেন এবং অন্য ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। পরের দিন সকালে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে মহেন্দ্র এবং আমার শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। মহেন্দ্র তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এবং ময়নাতদন্তের বিরোধিতা করেন। কিন্তু আমার স্ত্রী নিকিতাই কৃতিকার মৃত্যুর আসল কারণ জানতে জোর দেন।”

অবশেষে, ৬ মাসের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর নিকিতার জেদের কাছে পুলিশকে নতি স্বীকার করতে হয়। এই সপ্তাহেই পুলিশ ড. মহেন্দ্র রেড্ডিকে মানিপাল থেকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে।