₹২ লক্ষ কোটি তুলে নিল FII! ভারতীয় শেয়ার বাজারকে কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা?

ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FIIs) বড় অঙ্কের অর্থ তুলে নেওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে (জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত) FIIs ভারত থেকে প্রায় ₹১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২১ মাসে ভারতীয় ইক্যুইটি বিক্রির মোট অঙ্ক ₹৩.১৯ লক্ষ কোটিতে পৌঁছেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই বিপুল বিক্রির প্রবণতা সহজে থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মর্গ্যান স্ট্যানলির ভারতের চিফ ইক্যুইটি স্ট্র্যাটেজিস্ট রিধম দেশাই একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঠিক তিনটি প্রধান কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজারকে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
FIIs-এর প্রত্যাহারের ৩ প্রধান কারণ
মর্গ্যান স্ট্যানলির এই বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতীয় বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত তিনটি কারণ দায়ী:
১. এআই (AI) ফ্যাক্টর: এআই বাণিজ্যের অনুপস্থিতি
রিধম দেশাই মনে করেন, ভারতের অন্যতম প্রধান ঘাটতি হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর প্রয়োগে পিছিয়ে থাকা। তিনি জানান, উন্নত বিশ্বের বাজারগুলি এখন ‘AI ট্রেড’-এর দিকে ঝুঁকেছে, কিন্তু ভারতে সেই ‘এআই ট্রেড’-এর উপস্থিতি নেই।
দেশাই বলেন, “ইউরোপকে বাদ দিয়ে যেসব বাজারে AI বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং এআই-এর বড় অংশ রয়েছে, সেই বাজারগুলো ২০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১২ মাস ধরে সেই কারণেই বৈশ্বিক বাজারগুলোতে তেজি দেখা যাচ্ছে, আর এর বিপরীতে ভারতের বাজার যেন ‘বিয়ার মার্কেটে’ (মন্দা) আছে বলে মনে হচ্ছে।”
২. উচ্চ মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ
গত বছর যখন FIIs ভারতীয় বাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার শুরু করে, তখন তার প্রধান কারণ ছিল ‘অতিরিক্ত মূল্যায়ন’ (Stretched Valuation)। অল্প সংখ্যক স্টকের পিছনে বেশি অর্থ ধাওয়া করার ফলে বাজার অতিরিক্ত মূল্যায়িত হয়েছিল।
দেশাই উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের সর্বোচ্চ উচ্চতা থেকে বাজার কিছুটা কমলেও FIIs-এর সেই উদ্বেগ এখনও কাটেনি। তিনি বলেন, “প্রথমত, ভারতের নিরঙ্কুশ মূল্যায়ন (Absolute Valuation) নিয়ে তাদের এখনও সমস্যা রয়েছে, যদিও আপেক্ষিক মূল্যায়ন (Relative Valuation) যথেষ্ট উন্নত হয়েছে… এক বছর আগে চীনের আর্নিং ছিল ৯ গুণ, ভারতের ছিল ২০ গুণ। এখন চীন ১৫ গুণে পৌঁছেছে, আর ভারত এখনও ২০ গুণেই রয়েছে।”
বর্তমানে নিফটি ৫০ তার প্রাইস টু আর্নিংস (P/E) ২২.২৩ গুণ-এ লেনদেন করছে, যেখানে চীনা সূচকগুলির P/E ১৬-এর কাছাকাছি রয়েছে।
৩. দেশীয় বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান শক্তি
মর্গ্যান স্ট্যানলির এই বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের (DIIs) ক্রমবর্ধমান শক্তিও একটি সম্ভাব্য কারণ, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দূরে রাখছে।
তিনি মনে করেন, দেশীয় বিনিয়োগকারীরা ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী এবং বাজারে বিক্রির চাপ শুষে নেওয়ার কোনো সুযোগ তাঁরা হাতছাড়া করছেন না। দেশাই বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশীয় ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, যার অর্থ হল শেয়ারের দাম আরও অনেক বাড়াতে হবে, কারণ দেশীয় বিনিয়োগকারীরা আসলে স্টক সরবরাহ করছেন (বিক্রির চাপ সামলাচ্ছেন)।” অর্থাৎ, DIIs বাজারে একটি শক্তিশালী ক্রয় সমর্থন তৈরি করে FIIs-কে তাদের কাঙ্ক্ষিত কম দামে শেয়ার বিক্রি করতে দিচ্ছে না।