ইজরায়েলকে ‘সবাইকে মেরে ফেলার’ অনুমতি ট্রাম্পের হামাসের হাতে থাকা বাকি মৃতদেহ উদ্ধার নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের নতুন উদ্যোগ!

জেরুজালেম/গাজা: যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তপূরণ নিয়ে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। জীবিত বন্দিদের মুক্তির পর এবার ইজরায়েলি বন্দিদের মৃতদেহ প্রত্যর্পণ শুরু হলেও, বাকি দেহাবশেষ উদ্ধারে ‘বিশেষ সরঞ্জাম’ এবং ‘ব্যাপক চেষ্টার’ প্রয়োজন বলে জানাল হামাস। এই ঘোষণার পরই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, চুক্তি ভঙ্গ হলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হবে।
হামাসের সামরিক শাখা ইজজেদিন আল-কাসসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা চুক্তির শর্ত মেনে তাদের হেফাজতে থাকা সকল জীবিত ইজরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং যতটুকু মৃতদেহ তাদের নাগালের মধ্যে ছিল, তাও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বাকি দেহাবশেষগুলি উদ্ধারের জন্য ‘ব্যাপক প্রচেষ্টা ও বিশেষ যন্ত্রপাতির’ দরকার।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে আরও দুটি দেহাবশেষ হস্তান্তরের পর, হামাস এ পর্যন্ত মোট সাতটি (২৮টি মৃত বন্দিদের মধ্যে) দেহাবশেষ ইজরায়েলের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। যদিও ফিরিয়ে দেওয়া একটি দেহকে ইজরায়েল প্রাক্তন বন্দির বলে শনাক্ত করেনি।
ট্রাম্প ও ইজরায়েল কাটজের কড়া বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত যদি হামাস পুরোপুরি পালন না করে, তবে ইজরায়েল সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ। তাঁর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, “যদি হামাস চুক্তি মানতে অস্বীকার করে, তবে ইজরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনরায় লড়াই শুরু করবে এবং হামাসকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করতে, গাজার বাস্তবতা পরিবর্তন করতে এবং যুদ্ধের সমস্ত লক্ষ্য অর্জনে কাজ করবে।”
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই বিষয়ে কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন। সিএনএন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, যদি হামাস চুক্তিকে সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়, তবে তিনি ইজরায়েলকে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেবেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, “ইজরায়েল যদি ভিতরে ঢুকে তাদের উপর আঘাত করতে পারত, তবে তারা সেটাই করত।”
দেহাবশেষ উদ্ধারে মধ্যস্থতাকারীরা
এদিকে, বাকি মৃতদেহগুলি উদ্ধারে সহায়তা করতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলি উদ্যোগ নিয়েছে। চুক্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্ক এই কাজে সাহায্য করার জন্য আলোচনা চালাচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, তুরস্ক গাজায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, মৃতদেহগুলির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে, হামাস ইজরায়েলের কারাগার থেকে প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে ২০ জন জীবিত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তবে মৃতদেহ প্রত্যর্পণ নিয়ে নতুন করে সৃষ্ট এই জটিলতা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।