দীপাবলির আগেই বকেয়া ডিএ নিয়ে বিরাট খবর? সুপ্রিম কোর্টে শেষ মুহূর্তে কী জমা দিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিএ (Dearness Allowance) মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন মোড় নিয়েছে। মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হওয়ার পর বিচারপতিরা আপাতত রায়দান স্থগিত রেখেছেন, স্ট্যাটাস এখন “Heard and Reserved”। তবে, এর মধ্যেই সরকারি কর্মীদের জয়লাভের সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করে শীর্ষ আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে একটি লিখিত আবেদন (Written Submission) জমা দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই আবেদনে তুলে ধরা জোরালো যুক্তি ও তথ্য রাজ্য সরকারের দেওয়া আর্থিক দুর্বলতার যুক্তিকে অনেকটাই নস্যাৎ করে দিতে পারে।
ডিএ কি ‘অনুদান’ না ‘আইনি অধিকার’?
যৌথ মঞ্চ তাদের লিখিত আবেদনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার (Legal Right), এটি কোনোভাবেই রাজ্য সরকারের অনুদান (Grant) নয়। তাদের মূল যুক্তি হলো—সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক (AICPI) অনুসারে, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্য সরকার ডিএ দিতে আইনত বাধ্য।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজ্যের নিজস্ব ROPA (বেতন ও ভাতা সংশোধন) নিয়ম, ২০০৯ অনুযায়ী AICPI-এর ভিত্তিতে মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণের কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই নিয়ম লাগাতার লঙ্ঘন করছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের আর্থিক দুরবস্থার যুক্তিকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। পালটা সরকারি কর্মীরা দাবি করেছেন, কেরল, মেঘালয় ও সিকিমের মতো অনেক রাজ্য নিয়মিতভাবে ডিএ প্রদান করছে, যাদের আর্থিক অবস্থা পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় তুলনীয় বা কোনো ক্ষেত্রে দুর্বল হলেও। এমনকি, দিল্লির বঙ্গ ভবন বা চেন্নাইয়ের যুব ছাত্রাবাসে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারের হারে ডিএ পেলেও রাজ্যের অভ্যন্তরের কর্মীরা বঞ্চনার শিকার, যা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 14) পরিপন্থী।
কবে আসছে সেই বহু প্রতীক্ষিত রায়?
বিভিন্ন সূত্র মারফত খবর, রাজ্য সরকারি কর্মীদের এই মামলার রায়দান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। একাংশ মিডিয়া রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছে, আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে দীপাবলির ছুটি শুরু হওয়ার আগেই রায় ঘোষণা হতে পারে। আবার, কর্মীদের অন্য একটি অংশের মতে, নভেম্বরের মধ্যেই বা চলতি বছরের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মামলার রায় দিতে পারে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। রায়দানের নির্দিষ্ট তারিখের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।