২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম! কখন আসছে সম্পূর্ণ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ইলেকট্রিক SUV এবং Genesis?

দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা হুন্ডাই (Hyundai) ভারতের জন্য এক বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। কোম্পানি জানিয়েছে যে তারা আগামী ৫ বছরে ভারতে ৪৫,০০০ কোটি টাকা (প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। শুধু তাই নয়, হুন্ডাই ভারতীয় বাজারে ২৬টি নতুন মডেল লঞ্চ করার পরিকল্পনা করেছে।

ভারত সফরে আসা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুন্ডাইয়ের প্রেসিডেন্ট এবং CEO হোসে মুনোজ (Jose Munoz) জানিয়েছেন, হুন্ডাই ইন্ডিয়ার লক্ষ্য হলো তাদের মোট ব্যবসার ৩০% পর্যন্ত রফতানি থেকে আনা।

২০৩০-এর লক্ষ্য: টার্গেট ১ লক্ষ কোটি টাকার টার্নওভার

হোসে মুনোজ বুধবার বলেছেন যে হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া লিমিটেড (HMIL) ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।

  • বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার: এর লক্ষ্য ভারতকে হুন্ডাইয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈশ্বিক বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
  • রাজস্ব বৃদ্ধি: কোম্পানির উদ্দেশ্য হলো তাদের মোট আয় ১.৫ গুণ বৃদ্ধি করা এবং ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন টাকা (১ লক্ষ কোটি টাকা) টার্নওভারের সীমা অতিক্রম করা।

মুনোজ আরও বলেন, এই বিনিয়োগের ৬০% খরচ হবে পণ্য ও R&D (গবেষণা ও উন্নয়ন)-এ এবং বাকি ৪০% খরচ হবে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো ও আপগ্রেডেশনের জন্য। বর্তমানে ভারত হুন্ডাইয়ের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার, যা তাদের বৈশ্বিক বিক্রয়ের ১৫%।

নতুন মডেল, EV এবং লাক্সারি ব্র্যান্ড

২০৩০ গ্রোথ রোডম্যাপের অধীনে হুন্ডাই ইন্ডিয়া ২৬টি নতুন মডেল বাজারে আনবে, যার মধ্যে ৭টি সম্পূর্ণ নতুন মডেল থাকবে।

  • নতুন সেগমেন্ট: এর মাধ্যমে কোম্পানি MPV (মাল্টি পারপাস ভেহিকেল) এবং অফ-রোড SUV সেগমেন্টে প্রবেশ করবে।
  • সম্পূর্ণ দেশীয় EV: কোম্পানি পরিকল্পনা করেছে যে ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের জন্য সম্পূর্ণভাবে ভারতে ডিজাইন, ডেভেলপ ও ম্যানুফ্যাকচার করা একটি ইলেকট্রিক SUV লঞ্চ করবে।
  • Genesis আসছে: এর পাশাপাশি, হুন্ডাই তাদের লাক্সারি ব্র্যান্ড Genesis-কে ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের বাজারে নামাবে।

CNG, EV এবং হাইব্রিডে ফোকাস

হুন্ডাই ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর উনসু কিম বলেছেন, তাদের লক্ষ্য ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন টাকার রাজস্ব অর্জন করা, সাথে শক্তিশালী দুই-সংখ্যার EBITDA মার্জিন বজায় রাখা।

  • কোম্পানি চায়, ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে তাদের মোট আয়ে SUV-র অবদান ৮০% এবং পরিবেশবান্ধব পাওয়ারট্রেন (CNG, EV, Hybrid)-এর অবদান ৫০% ছাড়িয়ে যাক।
  • HMIL-এর এমডি এবং সিইও তরুণ গর্গ বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা হলো SUV সেগমেন্টে আমাদের অবস্থান আরও মজবুত করা। ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য হলো, মোট বিক্রয়ে SUV-র অবদান ৮০% হোক।”