‘পরিবেশ বদলাচ্ছে’: ভারতের পথে পাকিস্তান? কেন টিটিপি-কে (TTP) ঠেকাতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলার হুমকি দিচ্ছে ইসলামাবাদ?

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাতের নতুন ছবি ও ভিডিও বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংঘর্ষে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আফগান প্রশাসনের তালিবান যোদ্ধারা আধিপত্য বিস্তার করছে বলে দেখা যাচ্ছে।

আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ দুটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। একটি ভিডিওতে ভয়াবহ গোলাগুলি এবং অন্যটিতে তালিবান যোদ্ধাদের পাকিস্তানি ট্যাঙ্কে চড়ে তা চালাতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ভেসে আসছে, “দেখুন, এই তালিবান যোদ্ধারা পাকিস্তানি ট্যাঙ্ক চালাচ্ছে।”

তালিবানের অভিযোগ ও পাল্টা হামলার দাবি

জবিউল্লাহ মুজাহিদ সর্বশেষ তথ্যে জানিয়েছেন যে, ১৫ অক্টোবর সকালে পাকিস্তানের সৈন্যরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে হালকা ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কান্দাহারের স্পিন বোল্ডাক জেলায় আফগানিস্তানের উপর হামলা চালায়।

  • ক্ষয়ক্ষতি: এই হামলায় ১২ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
  • তালিবানের জবাব: এর পরই আফগান সেনাবাহিনী পূর্ণ শক্তি নিয়ে এর জবাব দেয়।
  • তালিবানের দাবি: জবিউল্লাহ মুজাহিদের দাবি, এই জোরালো পাল্টা হামলার সময় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা বহু পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। তাদের ঘাঁটি এবং কেন্দ্রগুলি তালিবান যোদ্ধারা দখল করেছে এবং তাদের অস্ত্র ও ট্যাঙ্ক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে, সেখানে থাকা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পরিকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

মুজাহিদ দাবি করেছেন যে আফগানিস্তান ডিফেন্স ফোর্সের মুজাহিদিনরা শত্রুদের প্রতিহত করতে এবং তাদের ভূমি রক্ষা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। জানা গিয়েছে, এই সংঘর্ষের কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

সংঘাতের কারণ: টিটিপি (TTP) এবং পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতি

এই সীমান্ত সংঘর্ষের মূলে রয়েছে আফগানিস্তান থেকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-কে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মনে করেন। টিটিপি কঠোর ইসলামী আইন কার্যকর করার দাবি করে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র অভিযান চালায়। যদিও টিটিপি আফগানিস্তানের তালিবান থেকে স্বাধীন, কিন্তু আদর্শগতভাবে উভয় গোষ্ঠী সমমনা।

কিছু বিশ্লেষক বলছেন, পাকিস্তান এখন তালিবানের সঙ্গে একটি নতুন সাধারণ নীতি স্থাপনের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে দিতে চাইছে যে, ভবিষ্যতে তাদের মাটিতে কোনো হামলা হলে তার বদলা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে নেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সপ্তাহান্তে লড়াই থামলেও আগামী সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং কোনো স্থায়ী সমাধান এখনও দূরবর্তী।