‘কাল করব!’ এই অভ্যাসই সর্বনাশ! ৫টি সহজ কৌশলে ঝেড়ে ফেলুন আলস্য, বাড়ান কাজের গতি।

অনেকেই তাদের সমস্ত কাজ সহজে এবং সময়মতো শেষ করে ফেলেন, তাদের মধ্যে থাকে এক অদ্ভুত কর্মোদ্যম। অন্যদিকে, বহু মানুষ কেবল তাদের কাজ ফেলে রাখেন ‘কাল করব’ বলে। কোনো কিছুতেই মন লাগে না, সারাদিন এক ধরনের আলস্য ঘিরে থাকে। এই অভ্যাস একজন ব্যক্তিকে তার লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তার কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। যদিও ক্লান্তির কারণে এমন হতে পারে, তবে অনেকের ক্ষেত্রে এটি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়, যার ফলে সমস্ত কাজ দেরিতে হয়।
আলস্য এমন একটি অবস্থা যেখানে ব্যক্তি যেকোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকে বা সেটি পিছিয়ে দেয়। এটি ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস আয়ত্ত করে আপনি সহজেই এই আলস্যকে দূর করতে পারেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই কার্যকর উপায়গুলি:
১. সঠিক রুটিন অনুসরণ করুন: একটি সুনির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন, যেখানে সময়মতো ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার নিয়ম থাকবে। শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে আপনি সতেজ অনুভব করবেন এবং কাজ করার জন্য আরও বেশি সময় পাবেন। দিনের শুরু যোগা বা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে করলে শরীরে চনমনে ভাব আসে এবং আলস্য দূর হয়।
২. ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: যাদের জীবনে কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য নেই, তারা প্রায়শই কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা দেখান। তাই প্রথমে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সেগুলো সম্পন্ন করার অভ্যাস তৈরি করুন। এতে শুধু আত্মবিশ্বাসই বাড়ে না, আলস্য দূর করতেও সাহায্য মেলে। আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হন, তবে আপনার আগ্রহের ক্ষেত্র চিহ্নিত করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করুন।
৩. একটি ‘টু-ডু’ তালিকা তৈরি করুন: প্রতিদিন সকালে বা আগের রাতে আপনার সারাদিনের কাজের একটি ‘টু-ডু লিস্ট’ (To-Do List) তৈরি করুন। এই তালিকায় কাজগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভাগ করুন। এটি আপনাকে জানতে সাহায্য করবে কখন এবং কী কাজ করতে হবে। বড় কাজগুলিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন এবং এক এক করে তা সম্পূর্ণ করুন।
৪. মোবাইলের ব্যবহার সীমিত করুন: আজকের যুগে বেশিরভাগ মানুষই মোবাইল, ল্যাপটপ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটান, যা কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করাও অনেক সময় আলস্যের জন্ম দিতে পারে। তাই এর ব্যবহার সীমিত করার চেষ্টা করুন এবং বেশি সময় সৃষ্টিশীল কাজে লাগান। দিনের কিছু সময় ফোন এবং অন্যান্য গ্যাজেট থেকে দূরে থাকুন, বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে মোবাইল বা ল্যাপট ব্যবহার করা পুরোপুরি বন্ধ করুন।
৫. ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করুন: যদি আপনি সবকিছু নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করেন, তবে এই অভ্যাস আপনার অলসতার কারণ হতে পারে। তাই সবসময় ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার চেষ্টা করুন। যদি আপনি নিজেকে সবসময় দুর্বল, ক্লান্ত বা ব্যর্থ মনে করেন, তবে আপনি কোনো প্রেরণা পাবেন না। এর জন্য নিজের সম্পর্কে ভালো চিন্তা করুন, অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও দেখুন এবং কথা শুনুন। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং ভাবুন যে আপনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারেন। নিজেকে বলুন: “আমি এটা করতে পারি”, “এটা কঠিন নয়”। প্রতিটি ছোট লক্ষ্য পূরণের পর নিজেকে বাহবা দিন।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: আপনি যা খান, তার প্রভাব আপনার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। তাই স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। বাইরে তৈরি তৈলাক্ত, মশলাদার এবং প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এতে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং আপনি সতেজ অনুভব করবেন। প্রতিদিন কিছু সময় মেডিটেশন বা হালকা ব্যায়াম/হাঁটার জন্য বের করুন।