মুসলিম বিদ্বেষে ভরসা? জোট শরিক BJP-র পথে NCP বিধায়ক জগতাপ, চরম বিপাকে অজিত পাওয়ার

এনসিপি বিধায়ক সংগ্রাম অরুণ জগতাপের একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যে কড়া অবস্থানে গেছে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)। ‘হিন্দুদের শুধু হিন্দুদের দোকান থেকেই জিনিসপত্র কেনা উচিত’—গত সপ্তাহে দেওয়া এই মন্তব্যের জেরে উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে নোটিশ পাঠান এবং মহারাষ্ট্রে সম্প্রদায়গত ভেদাভেদ না রাখার আহ্বান জানান।
তবে নোটিশ পাওয়ার পরেও জগতাপ নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে সকলের কথা বলার অধিকার আছে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে অন্য সম্প্রদায় আঘাত না পায়। তিনি জানিয়েছেন, তিনি শীঘ্রই নোটিশের জবাব দেবেন। এই মন্তব্যের পরই তাঁর নির্বাচনী এলাকা আহিল্যানগরে ‘আই লাভ মহম্মদ’ সংক্রান্ত বিক্ষোভের জেরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ায়, যা সহিংস সংঘর্ষে মোড় নেয় এবং ৩০ জনকে আটক করা হয়।
নোটিশের পরেও মুসলিমদের নিশানা
পার্টির পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) পাওয়ার পরেও এনসিপি বিধায়ক সংগ্রাম জগতাপের সুর বদলায়নি। মঙ্গলবার আহিল্যানগরে ফের একবার তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, হিন্দু মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনাগুলির জন্য ‘জিহাদিরা’ দায়ী।
বিধায়কের এমন লাগাতার বিতর্কিত ও মেরুকরণের রাজনীতি দলের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে, যা মহারাষ্ট্রে এনসিপি-কে তার জোট সঙ্গী বিজেপি ও শিবসেনা থেকে আলাদা করে রেখেছে। গত নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের সমর্থন লাভে অজিত পাওয়ারের জাতি ও ধর্ম-ভিত্তিক ভোটব্যাংকের কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই পরিস্থিতিতে নিজের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি রক্ষা করতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জগতাপের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায় যেন আঘাত না পায়, সেই ভারসাম্যও বজায় রাখতে হচ্ছে অজিত পাওয়ারকে। তাঁর এই দ্বিধা দলের জন্য রাজনৈতিক বিপদ ডেকে আনতে পারে।