‘বাইরে থেকে লোক এনে ভরানো হচ্ছে’, ভবানীপুরে প্রার্থী ঘোষণার আবহে কেন এমন বিস্ফোরক বার্তা মমতার?

সামনেই ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট। এই নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রার্থী কেন্দ্র নিয়ে চলা সব জল্পনার অবসান ঘটল। মঙ্গলবার তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে কার্যত তাঁর প্রার্থীপদ ঘোষণা করে দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi)।

মঙ্গলবার বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে সুব্রত বক্সী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতে চলেছেন। প্রচুর ভোটে তাঁকে জেতাতে হবে।” ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়ে হেরে যাওয়ার পর উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকে জিতে আসেন মমতা। সেই কেন্দ্রে এবারও জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ লক্ষ ভোটে জয়ী করব।”

বিজয়া সম্মিলনীতে পাঠানো অডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কেন্দ্র ভবানীপুরে ‘বহিরাগত’ প্রসঙ্গে সরব হন। তিনি নাম না করে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “ভবানীপুরে বাইরে থেকে লোক এনে এনে ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি যারা ভবানীপুরের বাসিন্দা তাদেরকে বলছি না। কিন্তু পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে লোক এনে এখানে বাড়ি কিনে দেওয়া হচ্ছে। ফ্ল্যাট কিনছে। পরিবেশটাকে খারাপ করার জন্য। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ঘোষণার পরেই পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার খোঁচা, “ওরা মমতার জয় নিয়ে সন্দিহান। প্রথমেই ভবানীপুর নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।” ‘বহিরাগত’ মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “মমতা বাংলাদেশীদের এনে রাজ্যের ডেমোগ্রাফি (জনবিন্যাস) পাল্টে দিয়েছেন। তিনি ভবানীপুর নিয়ে কথা বলছেন?”

এদিনের মঞ্চ থেকে বাকি ২৯৩টি কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন সুব্রত বক্সী। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “যাঁর হাতে সিম্বল বা প্রতীক থাকবে, তিনি প্রার্থী। কোনো রকম বিরোধ যেন না হয়। যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁকে মেনে নিতে হবে বাকিদের। কোনো বিরোধ নয়।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, নির্বাচনের আগে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলীয় কর্মীদের মধ্যে কোনো প্রকার অশান্তির আভাস পাচ্ছে তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্ব, তাই আগেই সতর্কতামূলক বার্তা দিলেন সুব্রত বক্সী।