ধনতেরাসের আগেই ‘আকাশ ছোঁয়া’ সোনা! কলকাতায় রেকর্ড দাম, উৎসবের বাজারে মাথায় হাত মধ্যবিত্তের

দীপাবলি ও ধনতেরাস—এই দুই উৎসবকে ভারতের বহু মানুষ শুধু ধর্মীয় উপলক্ষ হিসেবে দেখেন না, এটিকে আর্থিক বিনিয়োগের অন্যতম সেরা সময়ও মনে করেন। প্রচলিত বিশ্বাস, এই শুভ মুহূর্তে সোনা (Gold Price) ক্রয় করা মানেই সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির আগমন। কিন্তু ২০২৫ সালের ধনতেরাসের ঠিক আগে সোনার দাম যে হারে বাড়তে শুরু করেছে, তাতে অনেকেই তাঁদের বহুদিনের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যের ওঠানামা এবং বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা—এই সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবে সোনার দামে দেখা দিয়েছে তীব্র ঊর্ধ্বগতি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় বাজারেও। বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে মানুষের মধ্যে সোনার চাহিদা হু হু করে বাড়ে, ফলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে তৈরি হয় বিস্তর ফারাক, যা দামকে ঠেলে তোলে আরও ওপরে।

কলকাতায় বর্তমানে ১০ গ্রাম সোনার দাম এক ধাক্কায় ২,৬০০ টাকা বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১,২৬,৬০০ টাকায় পৌঁছেছে। শুধু সোনা নয়, পাল্লা দিয়ে রুপোর দামেও দেখা যাচ্ছে একইরকম উত্থান। ফলে যাঁরা ধনতেরাসের শুভ দিনে গয়না অথবা স্বল্প পরিমাণে সোনা কিনে সাধ্যের মধ্যে উৎসব পালন করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের বাজেট এখন বড়সড় ধাক্কার মুখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও উৎসবের আগে এমন মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিস্থিতিকে এখনই খুব খারাপ বলা যাচ্ছে না। কারণ ইতিহাস বলে, স্বল্প সময়ের জন্য সোনার দামে ওঠানামা হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সাধারণত স্থিতিশীল ও লাভজনক থাকে। ফলে যাঁরা সোনাকে দীর্ঘদিনের জন্য ‘সেফ ইনভেস্টমেন্ট’ হিসেবে দেখেন, তাঁদের জন্য এটি এখনও সুরক্ষিত বিকল্প।

বর্তমানে যাঁদের প্রয়োজন শুধু গহনা কেনার, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তাঁরা হয় কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারেন অথবা বাজেটের মধ্যে থেকে পরিমাণে কম সোনা কিনতে পারেন। কিন্তু যাঁরা ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বিনিয়োগ করতে চাইছেন, তাঁদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধির সময়েও সোনা ক্রয় একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হতে পারে।