চাকরি গেল, নাকি গেল ইস্তফা? দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলায় পদত্যাগ করলেন ডেপুটি সুপার!

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলায় চরম হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে অবশেষে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। বর্তমানে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন আখতার আলি।
স্বাস্থ্য মহলে গুঞ্জন, আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির এই ইস্তফার নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ সরকারি প্রতিহিংসার কাহিনি। দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনতেই একের পর এক বদলি ও নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল বলে তাঁর দাবি।
“আমার ডিপার্টমেন্টই আমায় চাকরি করতে দিচ্ছে না, আর জি করের দুর্নীতি ফাঁস করাই অপরাধ”
পদত্যাগের প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন আখতার আলি। তিনি বলেন, “চাকরিটা করি এবং মান-সম্মান রেখে মাথা উঁচু করে করি। কিন্তু, আমার ডিপার্টমেন্টই আমায় চাকরি করতে দিচ্ছে না।”
আখতার আলির অভিযোগ, আর জি করের দুর্নীতি এক্সপোজ করেছেন, এটাই তাঁর ‘অপরাধ’। তিনি বলেন, “ওরা মেনে নিয়েছে, আমি ওদের বিরুদ্ধে। কিন্তু, আমি ওদের বিরুদ্ধে নই। এটা আমি এখনও পর্যন্ত বোঝাতে পারিনি যে, আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে।”
তাঁর দাবি, হাত ধুয়ে তাঁর পিছনে পড়ে আছে তাঁরই দফতর। যার ফলে ছুটি মঞ্জুর না হওয়া, বাড়ি যেতে না পারা-সহ নানাভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। আখতার আলি আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমার ছুটি মঞ্জুর হচ্ছে না। আমি বাড়ি যেতে পারছি না…মুর্শিদাবাদে। ছুটি প্রিন্সিপ্যাল তখন স্বাস্থ্য দফতরে পাঠিয়ে দেন, স্বাস্থ্য দফতরকে দিয়ে খারিজ করিয়ে দেয়। আমি কোনও বেনিফিট পাচ্ছি না। আমি তো জানি আমি কিছুই পাব না।”
প্রাক্তন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মুখ খোলার ‘শাস্তি’: বেতন বন্ধ, সারা রাজ্য জুড়ে বদলি!
আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন এই আখতার আলিই। সেই কারণে তাঁকে বারবার বদলি হতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। গত আগস্ট মাসেও তিনি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছিলেন, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মুখ খোলার ও আইনি পথে যাওয়ার ‘খেশারত’ তাঁকে দিয়ে যেতে হচ্ছে।
তাঁর অভিযোগ ছিল, সরকার তাঁকে রাজ্য সরকার বিরোধী মনে করে সারা রাজ্য ঘোরাচ্ছে, বদলি করছে, বন্ধ করে দিয়েছে মাইনেও, এমনকি তিনি পেনশনও পাবেন না।
আখতার আলির প্রশ্ন, “তাহলে কি ওদের জোরটা শুধু আখতার আলির উপরেই? ওদের আর কোথাও দুর্নীতির উপর কোনও জোর নেই। একটা সবুজ ছাপ লাগলেই সাত খুন মাফ!”
তিনি আরও বলেন, “আমাকে কী করবে, খুব বেশি হলে শেষ করে দেবে, মেরে ফেলবে, বাংলার মানুষ আমার সঙ্গে আছে। আজকেও বলছি গভীর দুর্নীতি আছে এটার মধ্যে।” তিনি প্রাক্তন প্রিন্সিপালের ঘনিষ্ঠ একজনকে আর জি করে নিয়োগ করে তোলাবাজি করার গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন।
এই সমস্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।