“আমার ভুল হয়েছে, ঠিক করিনি”, যত্রতত্র ফেলে রাখা খাতা উদ্ধার হতেই স্বীকারোক্তি অভিযুক্ত অধ্যাপকের

পরীক্ষকের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জেরে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় এবং হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দুটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই ২০২৩ সালের বাংলা বিভাগের সেকেন্ড সেমিস্টারের পরীক্ষার কয়েক বান্ডিল খাতা কল্যাণী বি ব্লকের একটি বহুতল আবাসনের পিছনে উন্মুক্ত গ্যারেজের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

প্রশ্ন উঠেছে, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের এই গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি এভাবে উন্মুক্ত জায়গায় কী করে এল?

জানা গিয়েছে, ওই বহুতল আবাসনেই থাকেন মুর্শিদাবাদের হাজি এ কে খান কলেজের বাংলা বিষয়ের অধ্যাপক ননীগোপাল মালো, যিনি পরীক্ষার খাতা দেখার দায়িত্বে ছিলেন। তিনিই এই খাতাগুলি সেখানে রেখেছিলেন।

এই বিষয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অধ্যাপক বিমলেন্দু বিশ্বাস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ওই খাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়ার কথা। কেন তিনি দিলেন না? ২০২৩ সালের খাতা এতদিন কেন ওই অধ্যাপক তার কাছে রেখেছেন? কেনইবা এভাবে উন্মুক্ত জায়গায় ফেলে রেখেছেন, তা নিয়ে তদন্ত হবে।” তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ননীগোপাল মালোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে পাঠানো হবে এবং দ্রুততার সঙ্গে খাতাগুলি উদ্ধার করা হবে।

সংবাদমাধ্যমের নজরে আসার পরই নড়েচড়ে বসেন অধ্যাপক ননীগোপাল মালো। তড়িঘড়ি তিনি ওই খাতা সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে পুরো বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন যে তাঁর অন্যায় হয়েছে এবং এই কাজ করা তাঁর ঠিক হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার খাতা এভাবে ফেলে রাখার ঘটনায় শিক্ষামহলে তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে।