‘আমি বড় না তুমি বড় ছাড়ুন, নেতাদের কথা শুনুন’, দলীয় কোন্দল নিয়ে কঠোর বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতাদের মধ্যেকার রেষারেষি নিয়ে বিজয়া সম্মিলনী মঞ্চ থেকে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজয়া সম্মিলনীতে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দলের মধ্যে তুই বড় না আমি বড় ছাড়ুন, সোজা কথায় বললে, নেতাদের কথা শুনুন, বাঁকা কথা বললে দল ছেড়ে বেরিয়ে আসুন।”

নেতাকর্মীদের সরাসরি সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “পদাধিকারী হয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করবেন না। উপেক্ষা করতে শিখতে হবে।” শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, দলের আড়ালে কে কী করছেন, সেই খবর তিনি সবটাই রাখেন।

লোকসভা নির্বাচনের আগে কর্মীদের মধ্যে মনোবল বাড়াতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “প্রার্থীকে দেখার দরকার নেই, উপরে মোদীজী আর নিচে পদ্মফুল, এরাই আপনার প্রার্থী। এ লড়াই বাঁচার লড়াই।”

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তমলুক সাংগঠনিক জেলায় কয়েকটি আসনে কেন হার হয়েছিল, সেই বিষয়েও এদিন তিনি ব্যাখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, “প্রার্থী পছন্দ হয়নি তাই মেচেদার নির্বাচনী অফিসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। আমার খুব কষ্ট হয়েছে। আমি তখন কিছু বলতে পারিনি, সবে সবে এসেছি।”

এদিন হলদিয়ার প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ শ্যামল মাইতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাপসী মণ্ডল কিছুদিন আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। শুভেন্দু সরাসরি দাবি করেন, এই দু’জনই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে (তৎকালীন সময়ে) হারাতে চেয়েছিলেন, যদিও তাঁরা পারেননি।

তিনি বলেন, “আমায় এই খবর প্রথম জানিয়েছিলেন দলেরই কর্মী। তিনি বলেছিলেন আমায়, দাদা জেলা অফিসে যান। খবর খারাপ। নিজেই দেখুন। আমি তখন জেলা অফিসে গিয়েছিলাম। তখনই ধরে ফেলেছিলাম। আমি সব সময় সামনে কে কী বলে শুনি না। আড়ালে কে কী বলে খবর রাখি।”

দলত্যাগীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আগামী দিনে তৃণমূলের এমন হাল করব, একশো বছরেও খুঁজে পাওয়া যাবে না।” শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন, তাঁর নজরদারিতেই এই জেলায় আগামী দিনে ‘২ জন সাংসদ আর বিধায়কও নরেন্দ্র মোদীকে দেব।’