২০০ বছরের পুরোনো বিল্ডিং ভেঙে পড়ল বিকট শব্দে! বর্ধমান হোমিওপ্যাথি কলেজে চাঞ্চল্য, অল্পের জন্য বাঁচল প্রাণ

গত মাসে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাসের চাঙড় ভেঙে পড়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিপত্তি ঘটল বর্ধমান হোমিওপ্যাথি কলেজ ও হাসপাতালের চত্বরে। গত শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ আচমকা ভেঙে পড়ল কলেজের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের পিছনের দিকের প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি বিল্ডিং-এর একাংশ। বিকট আওয়াজে পুরো এলাকা জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।

সৌভাগ্যবশত, এই ধসের ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিল্ডিংটি বর্ধমানের রাজাদের সময়কার এবং বহু আগেই বর্ধমান পুরসভা এটিকে পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা করেছিল।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, রাজাদের আমলের এই পুরোনো বিল্ডিংটি একসময় সাংস্কৃতিক টোল এবং মন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হত। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জায়গাটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পরিণত হয়।

জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে স্থানীয় বিধায়ক খোকন দাস এখানে নতুন বিল্ডিং তৈরির জন্য শিলান্যাস স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। তার আগেই ঘটে গেল এই ভয়াবহ বিপত্তি। ফলে সরকারি প্রতিশ্রুতির ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বর্ধমান হোমিওপ্যাথি কলেজের ডাইরেক্টর অসীম কুমার সামন্ত জানান, এই পরিত্যক্ত অংশে কলেজের এক প্রাক্তন কর্মীর স্ত্রী বসবাস করতেন। ডাইরেক্টর বলেন, “তাকে সেখান থেকে উঠে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল, কারণ বাড়িটি পরিত্যক্ত। কিন্তু তিনি ওঠেননি। এ বছর একটানা বৃষ্টি হওয়ায় বাড়ির ভিত দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ে।”

ইতিমধ্যেই ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং পরে ওই জায়গাটি কলেজের কাজেই ব্যবহার করা হবে বলে ডাইরেক্টর জানিয়েছেন।