‘পাঁচ জন মিলে ধর্ষণ করেছে!’ দুর্গাপুর কাণ্ডে প্রকাশ্যে এল নির্যাতিতা ডাক্তারি ছাত্রীর প্রথম বয়ান, চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা দুর্গাপুরের (Durgapur) বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভয়াবহ ঘটনায় প্রকাশ্যে এল নির্যাতিতা ডাক্তারি ছাত্রীর প্রথম লিখিত বয়ান। গত শুক্রবার রাতে এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়ে নির্যাতনের শিকার হন ওড়িশার বাসিন্দা ওই ছাত্রী। ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তিন-চার লাইনের একটি লিখিত বয়ান জমা দেন, যা পরে পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। সেই বয়ানে নির্যাতিতা উল্লেখ করেছেন:
সময়কাল: রাত ৮টা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গোটা ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণ: বন্ধুর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে হাঁটার সময় হঠাৎই তিন জন যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে।
হামলা: তরুণী তাঁর বন্ধুদের ফোন করে খবর দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তেরা তাঁর ফোনটি কেড়ে নেয়। পরে আরও দু’জন সেখানে যোগ দেয়।
অভিযোগ: সব মিলিয়ে পাঁচ জন মিলে তরুণীকে ধর্ষণ করেছে।
হুঁশিয়ারি: অভিযুক্তেরা নাকি তরুণীকে পরে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ফোন ফেরত নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়।
সহপাঠী বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ
এই ঘটনা প্রসঙ্গে নির্যাতিতার বাবা রবিবার পুলিশের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন, যেখানে ওই সহপাঠী বন্ধুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, গোটা ঘটনার সঙ্গে ওই সহপাঠীও জড়িত থাকতে পারে।
যদিও তদন্তকারীরাও বন্ধুটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বান্ধবী বিপদে পড়েছেন দেখেও তাঁকে ফেলে রেখে সহপাঠী-বন্ধুটি যেভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং কলেজ থেকে অন্য বন্ধুদেরও ডেকে নিয়ে যাননি, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। তবে পুলিশ আপাতত ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের তল্লাশি চালাচ্ছে।
ওড়িশায় মেয়েকে ফেরানোর অনুরোধ বাবার
এদিকে রবিবার নির্যাতিতার বাবা জানান, তাঁর সঙ্গে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝীর কথা হয়েছে এবং তিনি সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। নিরাপত্তার অভাব বোধ করে বাবার আকুল আবেদন:
“আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছি, যাতে মেয়েকে এখান থেকে ওড়িশায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এই জায়গার উপর থেকে ভরসা উঠে গিয়েছে। মেয়েকে মেরেও ফেলতে পারে। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। কোনো পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। কোনো ব্যবস্থাই নেই এখানে।”
নির্যাতিতার বাবার এই মন্তব্য রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।