৬৯ কোটি ভারতীয় ইন্টারনেটবিহীন! ৫জি কভারেজ সত্ত্বেও ডিজিটাল ভারত অসম্পূর্ণ—কোথায় সমস্যা?

ভারত আজ বিশ্বের সেই হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে, যেখানে ৯৯% জনসংখ্যা ৪জি (4G) এবং ৮২% জনসংখ্যা ৫জি (5G) কভারেজের সুবিধা পাচ্ছে। অথচ, এই চমকপ্রদ সাফল্যের উল্টো দিকেই রয়েছে এক কঠিন সত্য—প্রায় ৬৯ কোটি ভারতীয় এখনও ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন! ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসের মঞ্চে এই পরিসংখ্যানটি শেয়ার করেছেন জিএসএমএ-এর (GSMA) মহাপরিচালক বিবেক বদ্রীনাথ।

তাঁর মতে, ভারতের আসল ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ এখন আর নেটওয়ার্ক নয়, বরং অন্য কিছু।

স্যাটেলাইট কেন সমস্যার সমাধান নয়?
স্টারলিংক বা ওয়ানওয়েবের মতো স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড কোম্পানিগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার দাবি করলেও, জিএসএমএ মহাপরিচালক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কেবল কভারেজের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে। কিন্তু ভারতের আসল সমস্যা কভারেজ নয়, বরং সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা।

জিএসএমএ-এর মতে, ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এই মুহূর্তে তিনটি প্রধান বাধা কাজ করছে:

১. স্মার্টফোনের সাশ্রয়ী মূল্য: ভারতে ডেটা বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা হলেও, অনেক মানুষ এখনও একটি ভালো স্মার্টফোন কিনতে পারে না। প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও, ডিভাইস নেই।
২. ডিজিটাল দক্ষতা (সাক্ষরতা): অনেক মানুষ জানেন না কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়। ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব একটি বড় বাধা।
৩. স্থানীয় ভাষার বিষয়বস্তুর অভাব: স্থানীয় ভাষায় প্রাসঙ্গিক এবং ব্যবহারযোগ্য বিষয়বস্তুর অভাবের কারণে ইন্টারনেট অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে না।

জিএসএমএ-এর “ডিজিটাল নেশন ইন্ডিয়া” রিপোর্টটি ভারতের এই অসম্পূর্ণ ডিজিটাল চিত্রটি তুলে ধরেছে। প্রায় অর্ধেক ভারতীয় এখনও ইন্টারনেটের অ্যাক্সেসের বাইরে। এই ডিজিটাল বিভাজনের সঙ্গে লিঙ্গ বৈষম্যও জড়িত।

পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ৩৩% বেশি।

এছাড়াও, আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হল অনলাইন জালিয়াতির ভয়। রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রায় ৫০% ভারতীয় কোনও না কোনও সময়ে অনলাইন জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। এই কারণে মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে ভয় পান। জিএসএমএ জানিয়েছে, এই সমস্যা মোকাবেলায় ব্যাংক, টেলিকম এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে অবশ্যই একসাথে কাজ করতে হবে।