৭২ ঘন্টা অফিসের পর স্বামী বাড়ি ফিরতেই অবাক করা ঘটনা স্ত্রীর! ক্লান্ত স্বামীর সঙ্গে জোর করেই শুরু করে দিল…

কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সংবেদনশীল ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বিষাক্ত (Toxic) কর্মসংস্কৃতি কীভাবে একজনের পারিবারিক জীবনকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে। বিশেষত, পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং পেশাগত চাপের গুরুতর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি টানা ৭২ ঘণ্টা কাজ করার পর অত্যন্ত ক্লান্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন। ঘরে ফিরতেই স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্ত্রী, তাঁর অভিযোগ ছিল স্পষ্ট: স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে একা হাতে পুরো সংসারের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। স্ত্রী চিৎকার করে বলেন, “আ গয়ে, ১৬ ঘন্টা ঘরে দিজিয়েগা, ৭২ ঘন্টা রেল কো দিজিয়েগা… পুরা দিন কা ঘর কা কাম হাম হি করতে রহে।”

ভিডিওটিতে দেখা যায়, ব্যক্তিটি মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছেন, স্ত্রীকে কোনো উত্তর দিচ্ছেন না। তাঁর মুখমণ্ডলের গভীর ক্লান্তি আর অবসাদ যেন অনেক অব্যক্ত কথা বলে দিচ্ছে। নেটিজেনদের অনেকের মতে, এই নীরবতা আসলে প্রতিদিনের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর আসা পরাজয় ও হতাশার প্রতীক।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে ওই ক্লান্ত মানুষটির প্রতি গভীর সহানুভূতি জানিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “চোখে দেখুন ক্লান্তি, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কতটা চাপে আছেন।” আরেকজনের মত, তাঁর চুপ থাকা প্রমাণ করে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

অন্যদিকে, অনেকে আবার স্ত্রীর পক্ষেও সাওয়াল করেছেন। তাঁদের মতে, স্ত্রীর রাগ স্বামীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই উৎসারিত। একজন বলেছেন, “সে চেঁচাচ্ছে কারণ সে চায় স্বামী বুঝুক, এই কাজের ধারা ওর জীবনটাই কেড়ে নিচ্ছে।” কেউ কেউ সরাসরি দীর্ঘ কর্মঘণ্টার জন্য সংস্থাকে দায়ী করেছেন—তাঁদের মতে, এটি কাজের জায়গার শোষণ, যা পরিবারকে সময় দিতে দিচ্ছে না।

তবে স্ত্রীর আচরণের সমালোচনাও করেছেন নেটিজেনদের বড় অংশ। তাঁদের দাবি, এত ক্লান্ত এক জন মানুষকে আগে বিশ্রাম দেওয়া উচিত ছিল। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “রাগটা ঠিক আছে, কিন্তু অন্তত ওকে একটু বিশ্রাম নিতে দিন, জলের গ্লাসটা দিন, জামা বদলানোর সুযোগ দিন—তারপর কথা বলুন।” তাঁদের মতে, এভাবে একজন ক্লান্ত মানুষকে ধমকানোটা অত্যন্ত নির্মম।

এই ভিডিওটি এখন সেই সব পেশার কর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে, যেখানে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত শিফট এবং নিরন্তর চাপ একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা। ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে, কর্মক্ষেত্রের বাড়তি চাপ কেবল ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য নয়, গোটা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকেও ভারসাম্যহীন করে তুলছে। সমাজে এখন প্রশ্ন উঠছে—উৎপাদনশীলতার নামে একজন মানুষ কতটা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন, আর সেই ক্লান্তির ভার তাঁর পরিবার কতদিন বহন করতে পারবে?