সারদা কাণ্ড: রাজীব কুমারকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল সিবিআই! ‘ইচ্ছাকৃত বাধা’র অভিযোগ, কী নির্দেশ দিল আদালত?

রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে (DGP Rajeev Kumar) কলকাতা হাইকোর্ট যে আগাম জামিন দিয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করে সিবিআইয়ের (CBI) করা আবেদনের শুনানিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের বেঞ্চে মামলাটি উঠলে তিনি সিবিআইকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “ছ’বছর পর এই মামলা কেন তোলা হল?”

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যে সিবিআই কিছুটা চাপে পড়ে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সিবিআইয়ের পক্ষে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি অভিযোগ করেন, রাজীব কুমার তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাজীব কুমারের আইনজীবীর দাবি— এই মামলার আড়ালে তাঁর মক্কেলের সম্মানহানি ঘটানোর চেষ্টা চলছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী শুক্রবার নির্ধারিত হয়েছে।

হাইকোর্টের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর রাজীব কুমারকে আগাম জামিন দেওয়া হয়। এর তিন দিনের মধ্যেই, ৪ অক্টোবর, সিবিআই শীর্ষ আদালতে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করে। ২০১৯ সালের ২৫ ও ২৯ নভেম্বর দু’বার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছিল এবং দ্বিতীয় দিনে রাজীব কুমারকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর থেকে একাধিক প্রক্রিয়াগত আবেদন জমা পড়লেও, দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর মূল শুনানিতে আর কোনও অগ্রগতি হয়নি। এত বছর পর এই মামলা কেন তোলা হল, সেই প্রশ্নই সোমবার করেছেন প্রধান বিচারপতি।

প্রসঙ্গত, সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত যখন রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) শুরু করে, তখন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ছিলেন রাজীব কুমার এবং তিনি সিটের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে সিবিআইকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সিবিআইয়ের অভিযোগ, রাজীব কুমার তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন, বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ও নথি বিকৃত করেছেন। তবে রাজীব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি শিলংয়ে পাঁচ দিন ধরে মোট ৪০ ঘণ্টা সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং কলকাতাতেও হাজিরা দিয়েছেন।

২০১৯ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট রাজীবের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা প্রত্যাহার করে এবং তাঁকে আগাম জামিনের আবেদন করার অনুমতি দেয়। এরপর কলকাতা হাইকোর্ট রাজীব কুমারকে আগাম জামিন মঞ্জুর করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, তাঁকে একাধিকবার জেরা করা হলেও নতুন কোনও তথ্যপ্রমাণ মেলেনি, তাই হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছিল— ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস পেলে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতে যায় সিবিআই।