“চাণক্যের সেই ‘ষড়গুণ’ নীতি”-জেনেনিন ভারত কীভাবে পাকিস্তানকে নাজেহাল করছে?

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ এখন চরম আকার নিয়েছে। রবিবার রাতভর চলা এই ভয়াবহ সংঘাতে কমপক্ষে ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে, ২০০-র বেশি তালিবান যোদ্ধার মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাচ্ছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যখন রীতিমতো যুদ্ধ পরিস্থিতি, তখনই ভারতের ভূমিকা কিন্তু বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দেখা যাচ্ছে, ভারত হাজার বছর আগের চাণক্যের বাস্তববাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নীতিতেই এগোচ্ছে।

এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আবহে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফরে এসেছেন। যে তালিবান সরকারকে ভারত এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, সেই সরকারের সঙ্গেই দিল্লির এই ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ চাণক্যের ‘মণ্ডল তত্ত্ব’ ও ‘ষড়গুণ নীতি’-র কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

চাণক্যের মণ্ডল তত্ত্ব ও ভারত-পাকিস্তান-আফগানিস্তান কৌশল:

চাণক্যের অর্থশাস্ত্র অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রের সরাসরি প্রতিবেশী হলো তার সম্ভাব্য শত্রু (‘অরি’), আর সেই প্রতিবেশীর প্রতিবেশী হলো স্বাভাবিকভাবেই তার মিত্র। এই নীতির নির্যাস হল:

  • পাকিস্তান (শত্রু): ভারতের সরাসরি প্রতিবেশী এবং ঐতিহাসিকভাবে শত্রু।
  • আফগানিস্তান (শত্রুর প্রতিবেশী): পাকিস্তানের প্রতিবেশী হিসেবে আফগানিস্তান ভারতের নীতিগত মিত্র হতে পারে।

চাণক্য নীতি বলে, যখন সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী শত্রু হবে, তখন প্রতিবেশীর প্রতিবেশীর সঙ্গে মিত্রতা বজায় রাখো— এতে শত্রুর ওপর চাপ সৃষ্টি করা সহজ হয়। ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে।

দ্বিমুখী নীতি (দ্বৈধিভাব): স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্কের গুরুত্ব

ভারত শুধুমাত্র পাকিস্তানকে চাপে রাখতেই কাবুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখছে না, বরং এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ দেখছে। তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিয়েই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার এই স্ট্র্যাটেজিক পদক্ষেপকে চাণক্যের ‘দ্বিধিভব’ (দ্বৈত নীতি) বলা হয়। এটি চাণক্যের ষড়গুণ নীতির একটি অংশ, যা জটিল আঞ্চলিক পরিস্থিতি পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।

ষড়গুণ নীতির মূলমন্ত্র:

  1. সন্ধি (Peace): কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করা।
  2. বিগ্রহ (War): প্রয়োজনে সামরিক কার্যক্রম বা সংঘাত।
  3. আসন (Neutrality): সরাসরি স্বার্থ নেই এমন সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকা।
  4. যান (March/Preparation): সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখা ও প্রস্তুতির সংকেত দেখানো।
  5. সংস্রয় (Alliance): হুমকিমোকাবিলায় শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে জোট গঠন করা।
  6. দ্বৈধিভাব (Dual Policy): এক পক্ষের সঙ্গে শান্তি বজায় রেখে অন্যের সঙ্গে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা।

তালিবান বিদেশমন্ত্রীর ভারত সফর এই ‘দ্বৈধিভাব’ নীতিরই বাস্তব প্রয়োগ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।