দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে গ্রেফতার আরও ১, ছাত্রীর বন্ধুর দিকেও কেন সন্দেহের তির?

মেডিক্যাল ছাত্রীর গণধর্ষণ কাণ্ডে বড় মোড়, আরও ১ জন গ্রেপ্তার। এই নিয়ে মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ৩ জনকে রবিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। চতুর্থ অভিযুক্তকে আজ আদালতে পেশ করা হবে।
ইতিমধ্যে এই ঘটনায় নির্যাতিতার বন্ধুর ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। NCW-এর সদস্য অর্চনা মজুমদার হাসপাতাল পরিদর্শনের পর দাবি করেন, নির্যাতিতা ছাত্রীকে তার বন্ধু জোর করে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি জানান, নির্যাতিতার বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক প্রমাণে বন্ধুদের ভূমিকায় গুরুতর সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
অর্চনা মজুমদার আরও বলেন, অভিযুক্তরা যখন ক্যাম্পাস চত্বরের বাইরে ছাত্রীকে ঘিরে ফেলে, ঠিক তখনই তার বন্ধু ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। কমিশনের সদস্য পুলিশের কাছে এই দিকটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ওড়িশা থেকে আসা নির্যাতিতার বাবাও বন্ধুর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্তরা তাঁর মেয়েকে ঘিরে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধু পালিয়ে যায়। মেয়েকে নিয়ে চরম উদ্বেগে ভুগছেন বাবা। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে প্রচণ্ড ব্যথায় হাসপাতালে আছে, সে হাঁটতেও পারছে না। যেকোনো মুহূর্তে ওকে খুন করা হতে পারে—এই ভয়ে আমরা ওকে ওড়িশায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা এখন বাংলার উপর আস্থা হারিয়েছি, সে ওড়িশাতেই পড়াশোনা করবে।”
নির্যাতিতা তাঁর বয়ানে জানিয়েছেন, বন্ধুর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে হাঁটছিলেন তিনি, তখনই কয়েকজন ঘিরে ধরে ধর্ষণ করে। পুলিশের সন্দেহ, নির্যাতিতার বন্ধু-সহপাঠীর কিছু গতিবিধিও সন্দেহজনক মনে হয়েছে, তাই তাকেও ‘আটক’ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রবিবার দুর্গাপুর পুলিশ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ও নমুনা সংগ্রহ করেছে। প্রমাণ রক্ষার জন্য গোটা এলাকায় বিশাল পুলিশি নিরাপত্তা বহাল রয়েছে। ওড়িশা সরকারের একটি দল নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও অনুমতি না মেলায় তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।