‘RSS শুধু নাগপুরেই গড়ে উঠতে পারত!’ কেন এমন দাবি করলেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত? জানুন আসল কারণ

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা ও বৃদ্ধিতে নাগপুর শহরের ‘অনন্য অবদান’-এর ওপর জোর দিলেন। শুক্রবার নাগপুরে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে সঙ্ঘ প্রধান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি করেন যে, এই সংগঠনের জন্ম নাগপুর ছাড়া অন্য কোথাও হওয়া সম্ভব ছিল না।
ভাগবত বলেন, “যদিও সারা দেশে এমন অনেক মানুষ ছিলেন যারা হিন্দুত্ব নিয়ে গর্ব করতেন এবং হিন্দুদের মধ্যে ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন, আমি বিশ্বাস করি যে আরএসএস-এর মতো একটি সংগঠন শুধুমাত্র নাগপুরেই গড়ে উঠতে পারত।” তাঁর মতে, এই শহরে “ত্যাগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অন্তর্নিহিত মনোভাব” আগে থেকেই ছিল, যা ১৯২৫ সালে ডঃ হেডগেওয়ারকে আরএসএস প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিল।
RSS প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় দায়িত্ব
সংঘ সম্প্রতি বিজয়াদশমীতে তার শতবর্ষ উদযাপন করেছে। ১৯২৫ সালে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এই সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল নাগরিকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা, শৃঙ্খলা, সেবা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করা।
দেশের সম্মিলিত দায়িত্বের কথা বলতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “দেশকে গড়া ও উন্নত করা আমাদের কর্তব্য; এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করি। যে দেশ ভালো করে, সে বিশ্বে নিরাপদ ও সম্মানিত হয়।”
শিবাজীর ঐতিহ্য ও ঐক্যের চেতনা
আরএসএস প্রধান তাঁর বক্তৃতায় মহান যোদ্ধা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের ঐতিহ্য স্মরণ করেন। তিনি শিবাজীর স্বরাজ ও ঐক্যের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন।
ভাগবত বলেন, শিবাজী মহারাজের প্রচেষ্টা ব্যক্তিগত লাভের জন্য ছিল না, বরং “ঈশ্বর, ধর্ম এবং দেশের জন্য” ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, “যখন শিবাজী মহারাজ স্বরাজ প্রতিষ্ঠা শুরু করেন, তখন তিনি মানুষকে নিজের জন্য নয়, বরং একটি মহান উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছিলেন। তাঁর ঐক্যের চেতনা মানুষকে শক্তি দিয়েছিল।” তিনি জানান, শিবাজী মহারাজের এই আদর্শ শাসক, মুক্তিযোদ্ধা এবং এমনকি ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকেও অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
মোহন ভাগবত আরও বলেন, ব্রিটিশরা পরিকল্পিতভাবে সেইসব অনুপ্রেরণামূলক ভারতীয় প্রতীক ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল যা মানুষকে একত্রিত করেছিল। তিনি নাগরিকদের সমাজের ভালোর জন্য নিঃস্বার্থভাবে লড়াই করা মানুষদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে অনুরোধ করেন।