রাতের অন্ধকারে দাউ দাউ করে জ্বলল ২ হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার পৈতৃক ভিটে! শর্ট সার্কিট, নাকি অন্য কারণ?

একই সঙ্গে, পাশাপাশি থাকা দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বাড়িতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন-২ নং ব্লকের সাবড়া এলাকায় এই বিধ্বংসী ঘটনাটি ঘটে। আগুনে দুটি বাড়িরই সমস্ত আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে খবর।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যে দুই নেতার বাড়ি পুড়েছে, তাঁরা হলেন— তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য খইরুল বসার খান ওরফে বাবুল খান এবং দাঁতন-২ নং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ ইফতেকার আলি।
কীভাবে আগুন লাগল?
শুক্রবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রথমে তৃণমূল জেলা পরিষদ সদস্য বাবুল খানের পৈতৃক ভিটেতে আগুন লাগে। চোখের নিমিষেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশেই থাকা ব্লক সভাপতি ইফতেকার আলির বাড়িতেও। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে পাশাপাশি থাকা বাড়ি দু’টি।
যদিও এই বাড়ি দু’টি তাঁদের পৈতৃক ভিটে হওয়ায় বর্তমানে তাঁরা কেউই সেখানে বসবাস করতেন না। কিছুটা দূরেই তাঁদের নতুন বাড়ি। ফলে এই ঘটনায় দুই পরিবারের কোনও সদস্য আহত হননি, যা স্বস্তির বিষয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে আসেন এবং আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। দ্রুত খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলে। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও দমকলকর্মীরা যৌথভাবে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও, ভয়াবহ এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ খানিকটা সময় লাগে। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ সেন।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি দুর্ঘটনা?
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বভাবতই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। কিন্তু পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, বাবুলের খানের বাড়ির দোতলায় থাকা একটি ফ্রিজ থেকে সম্ভবত শর্ট সার্কিট হয়, আর সেখান থেকেই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শর্ট সার্কিটের ফলেই ফ্রিজে আগুন লাগে কিনা এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও, এই দুই নেতার বাড়ি পুড়ে যাওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য রয়েছে। এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে, তা তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে।