মহিলা সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, আফগান বিদেশমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনে তালিবানি ফরমান?

আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন। শুক্রবার তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে মুত্তাকি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। মুত্তাকি আশ্বাস দেন যে আফগান মাটি কখনও কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না।

তবে, বৈঠকের পর মুত্তাকির আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত বিষয় হয়ে ওঠে মহিলা সাংবাদিকদের অনুপস্থিতি। মহিলা সাংবাদিকদের ওই সম্মেলনে থাকা থেকে বিরত রাখা হয়, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে।

তালিবান বিদেশমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা সাংবাদিকদের উপর এই নিষেধাজ্ঞাকে সাংবাদিক এবং অন্যান্য মহল থেকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, কোনো মহিলা সাংবাদিককে আমন্ত্রণ না জানানো একটি অগ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ। অন্য একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “আমার মতে, পুরুষ সাংবাদিকদের প্রতিবাদে সম্মেলন থেকে বেরিয়ে আসা উচিত ছিল।”

সাংবাদিক সম্মেলনে মহিলা সাংবাদিকদের এই অনুপস্থিতি আফগানিস্তানে নারীদের ভয়াবহ দুর্দশার চিত্রই তুলে ধরে। ২০২১ সালের আগস্টে তালিবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে নারী অধিকারের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি ‘লিঙ্গ বর্ণবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আফগানিস্তানে নারীদের উপর তালিবানের বিধিনিষেধের ফলে সৃষ্ট সমস্যা সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগেও প্রকট হয়েছে। গত মাসে হওয়া একাধিক ভূমিকম্পে যেখানে ২,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, সেখানে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর প্রধান কারণ, তালিবানের কঠোর নিয়ম পুরুষ উদ্ধারকারীদের নারীদের স্পর্শ করতে নিষেধ করেছিল। পর্যাপ্ত মহিলা উদ্ধারকারী না থাকায় অনেক নারী ধ্বংসস্তূপে আটকে ছিলেন, ফলে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে।

তালিবান ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ শ্রেণির উপরে) এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। ইউনেস্কোর মতে, বর্তমানে ১.১ মিলিয়নেরও বেশি মেয়ে স্কুলে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা বন্ধের ফলে স্বাস্থ্য ও উদ্ধারকাজের মতো ক্ষেত্রে নারী পেশাদারদের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়া, তালিবানরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের কাজ করা নিষিদ্ধ করেছে এবং সরকারি চাকরি, এনজিও এবং বেসরকারি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।