কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, চুঁচুড়ার শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর, মারধরের পর আটক করল পুলিশ

হুগলির একটি কলেজের পার্টটাইম লেকচারার এবং প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের জেরে ছাত্রীর অভিভাবকরা শিক্ষকের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে মারধর করেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে।

যেভাবে ঘটনাটি ঘটেছে
পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা ওই শিক্ষক চুঁচুড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন এবং সেখানেই ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান। অভিযোগকারী ছাত্রী পোলবার বাসিন্দা এবং প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

অভিযোগ: গত মঙ্গলবার ওই ছাত্রী পড়তে এলে কেউ না-থাকার সুযোগ নিয়ে শিক্ষক তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ।

মারধর ও হাঙ্গামা: শুক্রবার বেশ কয়েকজন ছাত্রী অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষকের বাড়িতে চড়াও হন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ঘরের মধ্যে শিক্ষককে মারধর করা হয় এবং তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশি পদক্ষেপ: খবর পেয়ে চুঁচুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় ছাত্রীর পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই ভিত্তিতেই শিক্ষককে আটক করে পুলিশ।

তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি হেড কোয়াটার ঈশানী পাল জানিয়েছেন, ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আগামীকাল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে চুঁচুড়া পকসো আদালতে পেশ করা হবে।

কাউন্সিলরের মন্তব্য: চুঁচুড়া পুরসভার কাউন্সিলর মৌসুমী বসু চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন, অভিযোগের সারবত্তা তদন্ত করে দেখা উচিত এবং তা সত্যি প্রমাণিত হলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিতর্কের সৃষ্টি
যদিও এই ঘটনায় ছাত্রীর পরিবারের তরফে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, শিক্ষকের পরিচিত মহল এই ঘটনায় আশ্চর্য হয়েছে। ভাড়া বাড়ির মালিক ও শিক্ষকের দীর্ঘদিনের ছাত্রী স্বর্ণালী শীল জানান, এর আগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না এবং তিনি খুব ভালো পড়াতেন। তাঁদের দাবি, কেন হঠাৎ এমন অভিযোগ উঠল, তা জানা নেই।