“বাম আমলের চেয়ে এখন লড়াই আরও কঠিন, ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ”, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যে ধোঁয়াশা

পূর্ব বর্ধমান তৃণমূল জেলা কংগ্রেসের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। বর্ধমান শহর তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মেলনে তিনি বলেন, বাম আমলের চেয়েও এখন লড়াই কঠিন, কারণ এখন নাকি ‘ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ’ করতে হচ্ছে।

কেন ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রসঙ্গ?
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, যিনি তিনবার বিধায়ক হয়েছিলেন, তিনি তাঁর বক্তৃতায় বাম আমলের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনেছেন।

সামনাসামনি লড়াই: তিনি বলেন, “আগে আমরা একটা সামনাসামনি লড়াই দেখতাম। অনেক রক্তক্ষয়, অনেক মানুষের জীবনহানির মধ্যে দিয়ে আমরা কেউ জিতেছি, কেউ হেরেছি।”

কঠিন বর্তমান: তিনি আরও বলেন, “কিন্তু এখন যেন লড়াই আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে। তার কারণ তখন আমাদের শত্রু তাকে সামনাসামনি দেখতে পেতাম। আর এখন শত্রুদের সামনাসামনি দেখতে পাই না। প্রকৃতপক্ষে ছায়ার সঙ্গে লড়াই।”

তিনি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “ছায়ার সঙ্গে লড়াই করাটা কঠিন। সেই জায়গায় আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা যেটা পেয়েছি যে কোনও মূল্যে আগামী দিনে সেটা ধরে রাখতে হবে।”

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা
বর্ধমান শহর তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মেলনের মঞ্চ থেকে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ‘ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ’ বলতে কাদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল তাঁর এই মন্তব্যের সম্ভাব্য কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন:

১. গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সতর্কতা: বিশেষজ্ঞদের মতে, এক সময়ের লাল দুর্গ পূর্ব বর্ধমান জেলায় সিপিএম এখন অস্তিত্বের সংকটে এবং বিজেপিও ছন্নছাড়া। তবে কিছু কিছু এলাকায় শাসক দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। তিনি হয়তো এই অন্তর্বর্তী বিরোধের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন এবং কর্মীদের সতর্ক করেছেন।
২. দুর্বল ভেবে আত্মতুষ্টি: তিনি হয়তো কর্মীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বিরোধীরা দুর্বল বলে মনে হলেও আত্মতুষ্ট হওয়া ঠিক হবে না। গোপনে বা নেপথ্যে (ছায়ার মতো) থাকা শক্তি বা ষড়যন্ত্র কাজ করতে পারে, যার বিরুদ্ধে সব সময় সচেতন থাকতে হবে।

রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, বর্তমানে পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি বিধানসভা আসনে তাঁদের বিধায়ক এবং দুটি লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ রয়েছেন। এই অনুকূল পরিস্থিতি ধরে রাখার জন্যই তিনি কর্মীদের কঠোর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন।