স্বামীর মৃত্যু ৩৫ বছর, তবুও কেন আজও সিঁথিতে সিঁদুর পরেন রেখা? জেনেনিন সেই অজানা কারণ

বলিউডের চিরসবুজ নায়িকা রেখা আজ ৭১-এ পা দিলেন। বয়স যেন তাঁর কাছে স্রেফ একটি সংখ্যা, আজও যখন রূপোলী পর্দায় বা কোনো পুরস্কার মঞ্চে তাঁকে দেখা যায়, তাঁর রূপের জাদুতে চোখ ফেরানো দায়। তবে তাঁর রূপ ও স্টাইলের মতোই সমানভাবে আলোচনায় থাকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর সিঁথিতে ঝলমল করা লাল সিঁদুর।

প্রতিবারই যখন রেখা প্রকাশ্যে আসেন, তাঁর কপালে গাঢ় লাল সিঁদুর তাঁকে এক একান্ত পরিচয়চিহ্ন এনে দিয়েছে। কিন্তু এই সিঁদুরের গল্পটি শুরু হয় ১৯৮০ সালে ঋষি কাপুর ও নীতু সিংয়ের বিয়েতে। অবিবাহিত রেখার কপালে সেই সিঁদুর দেখে স্তম্ভিত হয়েছিলেন উপস্থিত অতিথিরা, তাঁদের মধ্যে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনও। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে জল্পনা শুরু হলে রেখা হেসে বলেছিলেন, “একটা শুটিং করছিলাম, ভুলে সিঁদুরটা মুছে ফেলিনি।” কিন্তু তারপর? তারপর আর কখনও তিনি সেই সিঁদুর মুছে ফেলেননি।

১৯৮২ সালে ‘উমরাও জান’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর, রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীবা রেড্ডিও তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন— “আপনি তো অবিবাহিতা, তাহলে সিঁথিতে সিঁদুর কেন?” রেখার উত্তর আজও প্রবাদবাক্য: “আমার শহরে এটা ফ্যাশন!”

১৯৯০ সালে দিল্লির শিল্পপতি মুখেশ আগরওয়ালকে বিয়ে করেন রেখা, কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই মুকেশ আত্মহত্যা করেন, যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়। তারপরও রেখা সিঁদুর পরা বন্ধ করেননি। কেউ বলেন, এ তাঁর প্রয়াত স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা। আবার অনেকের মতে, এই সিঁদুর আসলে অমিতাভ বচ্চনের প্রতি তাঁর নীরব ভালবাসার প্রতীক, যা নিয়ে গুঞ্জন আজও থামেনি। রেখা নিজে অবশ্য এ বিষয়ে বরাবরের মতোই নীরব। হয়তো সেই নীরবতাই তাঁর আসল স্টাইল-রহস্য।

রেখার ঝকঝকে কেরিয়ারে যেমন সাফল্যের ঝলক, তেমনই আছে সম্পর্কের জটিলতা আর বিতর্কের অন্ধকার ছায়া। জয়া বচ্চন বা হেমা মালিনীর সঙ্গে রেখার সম্পর্ক বহু বছর ধরেই ফিল্মপাড়ায় সরগরম। এবার আরও এক বর্ষীয়ান অভিনেত্রী অরুণা ইরানির মুখে উঠল রাখঢাকহীন অভিযোগ।

সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে অরুণা ইরানি জানান যে রেখা একসময় তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হলেও, পরে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে একটি ছবির কাজ থেকে বাদ দেওয়ান। ঘটনাটি ঘটেছিল ‘মঙ্গলসূত্র’ নামের একটি ছবিকে ঘিরে। অরুণা জানান, একটি ছবির জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর অগ্রিম পারিশ্রমিক পাওয়ার পরও প্রযোজকের তরফে তাঁকে বলা হয়, “রেখা চাইছেন না আপনি ছবিতে থাকুন।” অরুণা যখন রেখাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি তা স্বীকার করে নেন। রেখা বলেছিলেন, “যদি আমি ওই আবেগঘন চরিত্রটা ভালো করে অভিনয় করি, তাহলে নাকি ওর চরিত্রটা নেতিবাচক মনে হতে পারত দর্শকের কাছে।” রেখার এই স্বীকারোক্তিই সেই সময়ের বন্ধুত্বের সম্পর্কের বিতর্কিত অধ্যায় সামনে এনে দিল।