কোলারে পাহাড়ি মন্দির: স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় এখানে কেন ভিড় করেন হাজারো নারী? জেনে নিন বিশেষ কারণ!

গোটা দেশ যখন করবা চৌথ-এর (Karva Chauth) রং-এ সেজে ওঠে, তখন মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের একটি বিশেষ মন্দির এই উৎসবের নতুন পরিচয় তৈরি করেছে। কোলারের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই মন্দিরকে ভারতের প্রথম করবা চৌথ মন্দির বলে মনে করা হয়। প্রতি বছর এখানে বিপুল সংখ্যক মহিলা করবা চৌথের রাতে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত উপবাস করেন এবং প্রথাগত পদ্ধতিতে পুজো-অর্চনা করেন।
২০০২ সালে বৈদিক পদ্ধতি অনুসারে এই বিশেষ মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটিকে ভারতের প্রথম মন্দির হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা সম্পূর্ণভাবে করবা চৌথ উৎসব এবং সংশ্লিষ্ট দেবতাদের জন্য উৎসর্গীকৃত। প্রতি বছর এখানে করবা চৌথের দিনে বিশেষ পূজন, ভাণ্ডারা (মহাপ্রসাদ বিতরণ) এবং অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়। মনে রাখবেন, এটি রাজস্থানের সওয়াই মাধোপুরে অবস্থিত চৌথ মাতা মন্দির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সওয়াই মাধোপুরে যেখানে চৌথ মাতার প্রাচীন মন্দির আছে, সেখানে ভোপালের এই মন্দিরটি করবা চৌথ এবং শিব-পার্বতীর আরাধনার জন্য পরিচিত।
করবা চৌথের রাতে ভক্তদের জন্য এই মন্দিরটি চাঁদের প্রথম দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। মন্দির চত্বরে শিব-পার্বতী, গণেশ জি, কার্তিক দেব এবং চন্দ্রদেবের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে ১০৮ নাম এবং বৈদিক মন্ত্রের মাধ্যমে সমস্ত দেবতার পূজা করা হয়। প্রতি বছর করবা চৌথের রাতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি দম্পতি এবং শত শত ভক্ত মন্দিরে পৌঁছান। পূজা শেষে ভাণ্ডারা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এই বছরও সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভোপালের এই মন্দিরটি দেশের একমাত্র করবা চৌথ মন্দির যা কোনো ট্রাস্ট বা দান কমিটি ছাড়াই পরিচালিত হয়। এখানকার প্রতিটি কার্যকলাপ ভক্তদের অংশগ্রহণ এবং প্রথাগত পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।