আর নয় ‘দাদাগিরি’! কনস্টেবলের মতো ফিটনেস টেস্ট, পরীক্ষা দিয়ে তবেই কাজ—বদলে যাচ্ছে সিভিক ভলেন্টিয়ার নিয়োগের নিয়ম

আর কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের (Civic Volunteer) নিয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানা গিয়েছে, এবার সিভিক ভলেন্টিয়ারদের শুধু প্রশিক্ষণই দেওয়া হবে না, বরং পুলিশ কনস্টেবলের মতো ফিটনেস টেস্ট সহ নানা বিষয়ে পরীক্ষাও দিতে হবে। পরীক্ষা শেষে তাদের কাজের মূল্যায়নও করা হবে।

কেন এই কড়াকড়ি?
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে গত বছরের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গত বছর অগাস্ট মাসে কলকাতা আর জি কর মেডিকেল কলেজের এক তরুণী চিকিৎসক ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এক সিভিক ভলেন্টিয়ার গ্রেফতার হয়েছিল। এরপরেই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালতও এ নিয়ে রাজ্য সরকারকে তলব করে। অভিযোগ উঠেছিল, বিশেষ পুলিশি প্রশিক্ষণ নেই এমন ব্যক্তিদেরই বিভিন্ন স্তর থেকে লোক নিয়ে সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। এসব কারণেই এবার রাজ্যের তরফে এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, সিভিক ভলেন্টিয়ারদের প্রশিক্ষণ মূলত দুই ভাগে দেওয়া হবে:

১. রাস্তার ডিউটির প্রশিক্ষণ: যারা রাস্তায় ডিউটি করেন, তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সঠিক আচরণ, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ঠান্ডা মাথায় তা মোকাবিলার কৌশল শেখানো হবে। এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনও তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, কনস্টেবলদের পরীক্ষার মতোই তাদের শারীরিক সক্ষমতা খতিয়ে দেখা হবে।

২. থানার কাজের প্রশিক্ষণ: সিভিক ভলেন্টিয়ারদের অনেক সময় থানার কাজে বা ফৌজদারি মামলার তদন্তেও নিযুক্ত করা হয়। অর্থাৎ, তারা একপ্রকার পুলিশ বাহিনীর মতোই কাজ করেন। তাই ডিউটির সময় তাদের করণীয় এবং কোন কোন বিষয় মাথায় রাখতে হবে—সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শেখানো হবে।

সবচেয়ে বড় খবর, এই প্রশিক্ষণের জন্য রাজ্য সরকার মাথাপিছু টাকাও বরাদ্দ করেছে। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে। এই নির্দেশিকা প্রতিটি পুলিশ কমিশনারেট এবং পুলিশ সুপারের অফিসে পৌঁছে গিয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষেই নেওয়া হবে চূড়ান্ত পরীক্ষা।

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ মিলিয়ে রাজ্যে মোট ৭৫ হাজার পুরুষ ও মহিলা সিভিক ভলেন্টিয়ার রয়েছে। এদের নিয়োগের সময় বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজি, দাদাগিরি, কুকর্ম ও সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ তুলেছে। এই সমস্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে এবার এই কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হল।