“ওবামা পেলে আমি কেন নয়?”-নোবেল পেতে মরিয়া ট্রাম্প, হাতে গুনে গোনালেন যুদ্ধও

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আজ, শুক্রবার দুপুর ২টো ৩০ মিনিটে ঘোষিত হবে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীর নাম। বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে, এই বছর কি সেই সম্মান পেতে চলেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? এমন উত্তেজনার মাঝেই ট্রাম্প নিজে মুখ খুলেছেন এবং সরাসরি তোপ দেগেছেন পূর্বসূরি বারাক ওবামা-র বিরুদ্ধে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, “বারাক ওবামা যদি কিছু না করেই নোবেল পেতে পারেন, তবে আমি কেন নয়? উনি আমাদের দেশ ধ্বংস করেছেন। উনি ভালো প্রেসিডেন্ট ছিলেনও না। আমি তো ৮টা যুদ্ধ থামিয়েছি!”

প্রেসিডেন্ট পদে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওবামা একটা শান্তি পুরস্কার পেয়ে গেল কিছু না করেই। জানতেই পারল না কেন পেল। এমনি এমনিই নির্বাচিত হয়ে গেল। দেশ ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই করেননি উনি।” উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ওবামা আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার জন্য এই পুরস্কার পেয়েছিলেন।

নোবেল কি পাচ্ছেন ট্রাম্প?

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। গাজা সহ ৮টি যুদ্ধ থামানোর মতো ‘অবদান’-এর কথা তিনি তুলে ধরেন। তিনি কমপক্ষে ১০ বার প্রকাশ্যে এই পুরস্কার চেয়ে বায়না জুড়েছিলেন। এমনকী, রাষ্ট্রসঙ্ঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলিতেও নিজেকে পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে দাবি করেন। একবার ভারত ও পাকিস্তানের কাছে নিজের হয়ে তদবির করার দাবিও তুলেছিলেন।

ওসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নিনা গ্রেগার গাজায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে বলেছেন, “এখনও সেই সময় আসেনি… এখনই বলা যাবে না গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা দীর্ঘস্থায়ী হবে।”

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো— এ বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও মতেই নোবেল পাচ্ছেন না। কারণ, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩১ জানুয়ারি। সেই সময় দ্বিতীয়বারের জন্য হোয়াইট হাউসে পা রেখেছিলেন তিনি। চলতি বছরের ৩৩০টি মনোনয়নের তালিকায় ট্রাম্পের নাম নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে যদি তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধের মতো বড় সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারেন, তবে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের জন্য তিনি একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন।