আইএএস অফিসারের ‘রাজকীয় বিদায়’! ময়ূরপঙ্খী পালকিতে করে অফিসের বাইরে গেলেন সংস্কৃতি জৈন, ভিড়ের ছবি ভাইরাল!

স্কুল শিক্ষকের বদলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের কান্নাকাটি বা ধরনা-অবস্থানের কথা শোনা যায়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে এক আইএএস (IAS) অফিসারকে তাঁর অধঃস্তন কর্মীরা যে রাজকীয় সম্মানে বিদায় জানালেন, তা কার্যত নজিরবিহীন।
সেওনি জেলার কালেক্টর সংস্কৃতি জৈন সম্প্রতি ভোপাল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার পদে বদলি হয়েছেন। ২০১৫ ব্যাচের এই আইএএস অফিসারের কাজের শেষদিনটি তাঁর সহকর্মীরা স্মরণীয় করে রাখলেন এক ‘স্বর্ণ পালকি’র আয়োজন করে।
সহকর্মী ও অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা একটি কন্যা বিদায়ের আদলে আপাদমস্তক সোনালি রঙের একটি ময়ূরপঙ্খী শাহি পালকি ভাড়া করে আনেন। সংস্কৃতিকে সেই পালকিতে বসানো হয় এবং কর্মীরা নিজেরাই পালকি কাঁধে করে তাঁকে অফিসের বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আবেগঘন সেই মুহূর্তে সংস্কৃতি তাঁর দুই কন্যাসন্তানকেও কোলে বসিয়ে নিয়েছিলেন।
এই অভাবনীয় বিদায় অনুষ্ঠান দেখতে সেদিন জেলা কালেক্টর অফিসে আসা সাধারণ মানুষও ভিড় জমিয়েছিলেন। কর্মীরা পালকি কাঁধে নেওয়ার সময় বিখ্যাত বলিউড গান ‘পালকি মে হোকার সওয়ার চলি রে…’ ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজাতে থাকেন।
কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংস্কৃতি জৈনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং জনমুখী কাজের জন্যই এই অনন্য সম্মান জানানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সাদামাটা বিদায় নিলেন ‘মাটির মানুষ’ বৈশালী জৈন
একদিকে যখন সংস্কৃতি জৈনকে রাজকীয়ভাবে বিদায় জানানো হচ্ছে, ঠিক তখনই একই রাজ্যে অন্য এক মহিলা আইএএস অফিসার তাঁর বদলির দিন দেখালেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদাহরণ।
রেওয়ার মহকুমা শাসক পদে থাকা বৈশালী জৈন বদলি হয়ে গিয়েছেন রতলাম মহকুমায়। তাঁর সহকর্মীরা চেয়েছিলেন বিদায় সংবর্ধনায় বৈশালীর ওজনের লাড্ডু বিতরণ করা হবে। কিন্তু ‘মাটির মানুষ’ বৈশালী জৈন সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তিনি সকলকে হাসিমুখে নতমস্তকে প্রণাম জানিয়ে বিদায় নেন। বৈশালী এগিয়ে এসে কেবল লাড্ডু ও ওজনের দাঁড়িপাল্লার সামনে দাঁড়িয়ে প্রণাম করে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে যান। তাঁর এই বিনয়ী আচরণ সকলকে অবাক করলেও বৈশালী সকলের কাছ থেকে আন্তরিক তারিফ কুড়িয়েছেন।