রেলযাত্রীদের জন্য বিশাল সুখবর! ২৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন করল মোদি মন্ত্রিসভা, কমবে ট্রেন লেট

ভারতীয় রেলওয়েকে (Indian Railways) আরও নিরাপদ, গতিশীল এবং সময়ানুবর্তী করে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে সম্পন্ন হওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৪,৬৩৪ কোটি টাকা (প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির লক্ষ্য হল দেশের ব্যস্ততম রেল নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ এবং ট্রেন লেট হওয়ার সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা।
এই ৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৮৯৪ কিলোমিটার রেল ট্র্যাক আপগ্রেড করা হবে এবং বিদ্যমান লাইনগুলিকে ৪ বা ৬ লেনে সম্প্রসারিত করা হবে।
যে ৪টি রাজ্যে গতি বাড়বে
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, এই ৪টি প্রকল্প দেশের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ৪টি রাজ্য— মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট এবং ছত্তিশগড়ের মধ্য দিয়ে যাবে। এই মেগা প্রকল্প থেকে এই রাজ্যগুলির মোট ১৮টি জেলা সরাসরি উপকৃত হবে।
অনুমোদিত চারটি মূল প্রকল্প:
১. ওয়ার্ধা-ভুসাবল সেকশন: মহারাষ্ট্রের ৩১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন তৈরি হবে, যা মুম্বাই-হাওড়া করিডোরের অংশ।
২. গোন্ডিয়া-ডোঙ্গারগড় সেকশন: মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়কে সংযুক্ত করা ৮৪ কিলোমিটারের এই অংশে চতুর্থ লাইন নির্মিত হবে, যা মালবাহী এবং যাত্রীবাহী ট্রেনের জন্য পৃথক ট্র্যাক তৈরি করবে।
৩. ভদোদরা-রতলাম সেকশন: গুজরাট থেকে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ২৫৯ কিলোমিটার এই রুটটি দিল্লি-মুম্বাই করিডোরের মেরুদণ্ড, যার আপগ্রেডের ফলে রাজধানীতে যাত্রা দ্রুত হবে।
৪. ইটারসি-ভোপাল-বিনা সেকশন: মধ্যপ্রদেশের ২৩৭ কিলোমিটার এই রুটে চতুর্থ লাইন নির্মিত হবে, যা দিল্লি-চেন্নাই রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন।
কেন এই ৪টি রুট গুরুত্বপূর্ণ?
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই ৪টি রুট দেশের ৭টি ব্যস্ততম রেলপথের অংশ। এই রুটগুলির উপর সবসময় বিপুল চাপ থাকে। দেশের মোট ৪১ শতাংশ পণ্য এবং ৪১ শতাংশ যাত্রী পরিবহণ এই রুটগুলি দিয়েই সম্পন্ন হয়। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ট্রেন চলায় ট্রেনগুলি প্রায়শই দেরিতে চলে।
এই লাইনগুলি প্রশস্ত করার ফলে:
সময়ানুবর্তিতা: যাত্রীবাহী ট্রেনগুলির সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত হবে।
অর্থনৈতিক গতি: মালবাহী ট্রেনগুলির জন্য ডেডিকেটেড করিডোর তৈরি হবে। এর ফলে শিল্পে কাঁচামাল এবং বন্দরে পণ্য পরিবহণ অনেক দ্রুত ও সহজ হবে।
সরকার ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে এই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে, যা ভারতীয় রেলের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।