উত্তর কলকাতায় নামী মিষ্টির দোকানে রক্তারক্তি কাণ্ড! সহকর্মীর ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তাক্ত হলেন বৃদ্ধ

উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান থানা এলাকায় এক নামী মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থায় সহকর্মীর হাতে রক্তাক্ত হলেন এক বৃদ্ধ। সোমবার সকালে গিরিশ পার্কের জোড়াবাগান এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, বচসার মাঝেই গৌতম প্রধান (৪০) নামের অভিযুক্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে রবীন রুদ্র (৬০) নামে ওই বৃদ্ধকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেন।

ঘটনার পরই স্থানীয়দের তৎপরতায় পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং আহত বৃদ্ধকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল দোকানে?
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ স্থানীয়রা ওই মিষ্টির দোকানের ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। দোকানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, বৃদ্ধ রবীন রুদ্র রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন এবং অভিযুক্ত গৌতমের হাতে রক্তমাখা ধারাল অস্ত্র।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা আহত কর্মীকে জোড়াবাগান থানার পুলিশ দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ অভিযুক্ত গৌতমকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

খুনের চেষ্টার মামলা রুজু
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত রবীন রুদ্র পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা এবং বহু বছর ধরে ওই দোকানে কাজ করছেন। সহকর্মী গৌতম প্রধানের সঙ্গে কোনও বিষয় নিয়ে তাঁর বচসা শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ, সেই সময় গৌতম ধারালো অস্ত্র দিয়ে রবীনের গলায় কোপ মারেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, গৌতমের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে। দোকানের অন্যান্য কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য: কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান রূপেশ কুমার জানান, “ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে। ঘটনাটির মোটিভ জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। আপাতত যা প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তাতে খুনের চেষ্টা বলেই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।”

স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, দুই সহকর্মীর মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হতো, তবে এমন ভয়াবহ ঘটনার আশঙ্কা কেউই করেননি। বর্তমানে দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পুলিশি পাহারায় এলাকা শান্ত রাখা হয়েছে।